অদম্য মাহিনুরের শিক্ষক হওয়ার গল্প

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মাহিনুর আক্তার

Manual8 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই বিয়ে হয়ে যায় মাহিনুরের।  ২য় বর্ষে থাকতেই জন্ম দেন এক সন্তানের। সংসারের ব্যস্ততা, সন্তান দেখাশোনা ও শ্বশুরবাড়ির দায়দায়িত্ব কাঁধে নিলেও স্বপ্ন থেকে পিছ পা হননি এক সাহসী নারী। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সর্বোচ্চ মেধার পরিচয় দিয়ে হয়েছেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বলছিলাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য নিয়োগ পাওয়া গণিত বিভাগের প্রভাষক মাহিনুর আক্তারের কথা।

Manual8 Ad Code

মাহিনুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শরাফতি গ্রামে মধ্যবিত্ত একটি পরিবারে জন্ম নেন তিনি। বাবা হাজী মোহর আলী পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা রেখা আক্তার একজন গৃহিণী। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

২০০৩ সালে শরাফতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পান। এছাড়াও ২০০৮ সালে শরাফতি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ এবং ২০১০ সালে বরুড়া শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ থেকে ৪.৮০ জিপিএ নিয়ে কলেজ জীবন শেষ করেন। পড়াশোনার সব স্তরেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন মাহিনুর।

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় উচ্চ মাধ্যমিকের পর একটু হোঁচট খান মাহিনুর। ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল।  কিন্তু মেডিকেল কলেজে চান্স না পাওয়ায় ভর্তি পরীক্ষা দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মনস্থির করেন গণিত বিভাগেই পড়বেন।

পরিবারের সিদ্ধান্তে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষে বিয়ে হয়।  স্বামী কাজী বিল্লাল হোসাইন সবুজ সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার।  এরপর সন্তান ও স্বামী-সংসারের পাশাপাশি শ্বশুর বাড়ির দায়িত্বও চলে আসে তার উপর। এতসব ভার নেয়ার পরও আত্মবিশ্বাস বিন্দুমাত্র কমেনি তার।

Manual8 Ad Code

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সেমিস্টারে ৩.৬৩ জিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম হন। এর পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন যেন তাকে তাড়া করতে শুরু করে।

প্রথম থেকেই ভালো ফলাফল অর্জন করায় তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভাগের সকলের নজরে চলে আসেন। এ ধারাবাহিকতা ধরে রেখে তিনি স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৮৭ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সিজিপিএ ৪.০০ অর্জনের মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন।

Manual1 Ad Code

স্নাতকে বিজ্ঞান অনুষদ থেকে তিনি সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করায় ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ এবং একইসাথে  স্নাতকোত্তর পর্যায়ে নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ‘চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড -২০২০’ লাভ করেন।

সন্তান, সংসার, স্বামী সবকিছু সামলিয়ে নানা সংগ্রামে জয়ী হওয়া মাহিনুর অবশেষে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে তার সেই স্বপ্নের পূর্ণতা পেয়েছেন।

অনুভূতি জানতে চাইলে মাহিনুর আকতার বলেন, আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। শিক্ষক হওয়ার জন্য আমার আত্মবিশ্বাস আর প্রচেষ্টার  কমতি ছিলো না।  তবে আমার বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী, শিক্ষক এবং বন্ধু-বান্ধবদের অনেক অনুপ্রেরণায় আমি এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।  যারা আমার পাশে থেকে সব সময় আমাকে সাহস যুগিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code