অপচয় রোধে ইসলামের সতর্কবার্তা

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual4 Ad Code

ধর্ম ডেস্ক: 

Manual1 Ad Code

আজকাল অপচয় ও অপব্যয় যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অপচয় ও অপব্যয় যে যত কৌশলে যত বেশি করতে পারবে সে যেন তত বেশি আধুনিক বা স্মার্ট হবে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা উচ্চবিত্তদের মধ্যে থাকলেও এখন তা ছড়িয়ে পড়ছে সর্বস্তরে।

 

প্রায়ই দেখা যায়, খাবারের টেবিলে বসে কেউ কেউ প্লেট ভরে খাবার নিচ্ছেন কিন্তু পুরো খাবার খাচ্ছেন না। বিভিন্ন উৎসব–অনুষ্ঠান, দাওয়াতে বা রেস্টুরেন্টে গিয়ে অতিমূল্যবান খাবারের কিছু অংশ খেয়ে বাকিটা নষ্ট করে রেখে দিচ্ছেন। অনেক দেশের তুলনায় খাদ্য অপচয়ের এ হার আমাদের দেশে কম থাকলেও ধারণা করা হয়, উচ্চবিত্ত–মধ্যবিত্ত মিলে অন্তত এক কোটি মানুষ এভাবে খাবার নষ্ট করেন। অথচ যে মুহূর্তে খাবার নষ্ট করা হচ্ছে, ঠিক তখনই আশপাশে হয়তো কোনো ক্ষুধার্ত শিশু কিংবা বৃদ্ধ অথবা অসহায় নারী ও পুরুষ খাবারের জন্য কষ্ট করছেন। ডাস্টবিন থেকে ফেলে দেওয়া এ খাবারগুলো তুলে খাচ্ছেন কেউ। এভাবে অপচয় না হলে হয়তো ওই লোকগুলো কম দামে এ খাবারগুলো কিনে খেতে পারতেন। শুধু খাদ্য অপচয়ই নয়, আমাদের রয়েছে নানা অপচয়ের অভ্যাস। দিনে দিনে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে জেনেও পানি অপচয়ে কেউ সচেতন হচ্ছেন না।

Manual2 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

অধিকাংশ মানুষকেই দেখা যায়, কল ছেড়ে দীর্ঘসময় নিয়ে থালা–বাসনসহ বিভিন্ন ধোওয়ার কাজ করেন। একটু সচেতন হলে যেখানে অর্ধেক পানি বাঁচানো যায়। গ্যাসের চুলা সারা দিন জ্বালিয়ে রাখার প্রবণতাও অনেকের মধ্যে দেখা যায়। যেখানে বাংলাদেশে গ্যাসের সংকট। লাইনে গ্যাস নেই বিধায় রান্নার বিকল্প লাকড়ি বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও কিছু অপচয় চোখে পড়ে। যেখানে শুধু খাবার নয়, যে কোনো অপচয়ই ইসলামে শক্তভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আহার কর ও পান কর, কিন্তু অপচয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না, (সূরা আরাফ : ৩১)। অপচয় ও অপব্যয়ের কারণে খাদ্যের বরকত উঠে যায়। আল্লাহর রাসূল (সা.) খাবার অপচয় থেকে বাঁচতে খাবারের সময় দস্তরখানা বিছিয়ে তার ওপর খাওয়ার জন্য বলেছেন, যাতে খাবার পড়ে গেলে সেটা তুলে খাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা.) খাওয়ার পর তার তিনটি আঙুল চেটে নিতেন। তিনি বলতেন, তোমাদের কারও খাবারের লোকমা নিচে পড়ে গেলে, সে যেন তার ময়লা দূর করে তা খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। তিনি আরও বলেছেন, তোমাদের খাদ্যের কোন অংশে বরকত রয়েছে, তা তোমাদের জানা নেই। (তিরমিজি : ১৮০৩)। খাবার হলো মহান আল্লাহর নেয়ামত। আমাদেরও উচিত এ খাবারকে সম্মান করা এবং কৃতজ্ঞচিত্তে তার প্রতি বিনীত হওয়া; যিনি আমাদের জন্য এ খাবার সৃষ্টি করেছেন।

Manual7 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code