অপেক্ষায় কুমার বিশ্বজিৎ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: এই লাইনগুলোর প্রতিটি শব্দই যেন কুমার বিশ্বজিতের বর্তমান
জীবনের প্রতিধ্বনি। প্রায় সবাই জানেন, দূর পরবাসে কিংবদন্তির একমাত্র পুত্র
নিবিড় কুমার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন প্রায় এক বছর
ধরে। আর তার অসহায় পিতা শুরু থেকেই সব ফেলে পুত্রের সুস্থতার প্রহর গুনছেন
হাসপাতালের করিডোরে পায়চারি করে।

Manual5 Ad Code

কিংবদন্তি কুমার বিশ্বজিতের দীর্ঘ, উজ্জ্বল আর গতিময় সংগীত ক্যারিয়ারে যেন
নেমে এলো হঠাৎ নীরবতা। মূলত সেই অপেক্ষাময় কঠিন নীরবতাই কুমার বিশ্বজিতের
হয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন গীতিকবি হাসানুজ্জামান মাসুম ও সংগীত পরিচালক
কিশোর দাশ। তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন খোদ কুমার বিশ্বজিৎ। গানটির নাম দিলেন ‘নিবিড়
অপেক্ষা’।

Manual1 Ad Code

এখনও কুমার বিশ্বজিৎ নিবিড় অপেক্ষায় আছেন কানাডার একটি হাসপাতালের
করিডোরে। সেখান থেকে এই গানটি প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করতেই আবেগাক্রান্ত হলেন।
বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন নিবিড়কে ঘিরে তার বেদনাময় অপেক্ষার কথা, ‘প্রথমেই
বলি, এটাকে আমি গান বলতে চাই না। এটা একজন পিতার আর্তি। আমি ভাবিনি নিবিড় ও
তার সহপাঠীদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর আবারও গাইবো। কারণ সেই মানসিক
শক্তি বা আগ্রহটাই মরে গেছে। মাসের পর মাস এই দূর পরবাসে ছেলেটার মুখের দিকে
তাকিয়ে থাকি, ওর কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায়। নিবিড়ের তিন সহপাঠীর অনুপস্থিতি
আমাকে প্রতিনিয়ত পিতৃসমতুল্য বেদনায় আচ্ছন্ন করে।’

‘নিবিড় অপেক্ষা’ সৃষ্টি প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘মাঝে আমি কয়েকদিনের
জন্য ঢাকায় গিয়েছিলাম। তখন কিশোর ও মাসুম একটা গান করার জন্য বার বার
অনুরোধ করছিলো। আমিও বার বার ওদের ইগনোর করেছি। কারণ গানটা তো আমরা
প্রাণ দিয়ে করেছি আজীবন। এখন তো আর আমার ভেতরে সেই প্রাণটা নেই। ওরা
এরপরও একটা ডামি বানিয়ে আমাকে শোনালো। শুনে মনে হলো, কথাগুলো তো আমারই।

Manual1 Ad Code

সুরটাও আমার ভেতরের হাহাকারের মতো। যেগুলো আসলে প্রকাশ করতে পারছি না।
পাথর হয়ে আছি। সত্যি বলতে এই গানটা গাইবার পর পাথরটা খানিক গললো বোধয়।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code