

সম্পাদকীয়: আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র সেখানে অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সহিংস ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মারামারি, অস্ত্রের ব্যবহার প্রভৃতি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাসার সামনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও হুমকি দিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ৭নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান। এ ঘটনার ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনাটি মঙ্গলবার ভোরে ঘটলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেন হুমকির শিকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সায়ীদ মো. আব্দুল্লাহ। সেই অভিযোগে তিনি আফতাব হোসেন খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি এলাকার অলিগলিতে মোটরসাইকেলে অস্ত্রের মহড়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, মাইকিংয়ে বাধা দেওয়া, কর্মীদের বাসাবাড়িতে সশস্ত্র অবস্থায় হুমকির কথাও জানিয়েছেন।
এর আগে মে মাসে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে গণসংযোগ চালানোয় তার কয়েকজন কর্মীকে অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইস আহম্মেদ ওরফে মান্নার বিরুদ্ধে।
এর আগেও ইউপি ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোয় যেখানেই সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই অগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। দেখা যায়, দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণহানির চেয়ে গুলিতে প্রাণহানির সংখ্যাই বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপারে প্রশাসন কি কিছু জানে না? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অস্ত্র উদ্ধার এবং তা ব্যবহারকারীদের অনেককে আটক করলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটতে আমরা দেখিনি।
সংবাদমাধ্যমেই উঠে এসেছে, সীমান্তের ওপার থেকে অবাধে বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র, বিশেষ করে ক্ষুদ্রাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটছে। চোরাচালানের মাধ্যমে আসা এসব অস্ত্র দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত, সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারীসহ রাজনৈতিক কর্মীদের হাতে চলে যাচ্ছে। এটা দেশের আইনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নাগরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।