মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

সম্পাদকীয়:

Manual3 Ad Code

বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন সুফল মিলছে না, তা জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা দরকার। অর্থনৈতিক বৈরী পরিস্থিতির মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ১১ শতাংশের ঘরে বিরাজ করছে মূল্যস্ফীতির হার।

Manual1 Ad Code

মূল্যস্ফীতি বাগে আনতে না পেরে মূল্যস্ফীতির ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ থেকে ৮ শতাংশে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ বিভাগ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ বিভাগ মনে করছে, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হলে আগামী জুন নাগাদ ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ ভিত্তিতে গড় মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসবে।

Manual1 Ad Code

আগামী তিন অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির গড় লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৬ শতাংশের উপরে অতিক্রম করবে না, সরকারের নথিপত্রে এমন প্রাক্কলন করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নথিপত্রে প্রাক্কলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত হতে পারেননি অর্থনীতিবিদরা।

Manual3 Ad Code

কারণ, বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশের বেশি। দেশের কোনো কোনো এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি। সম্প্রতি রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় প্রবৃদ্ধির ধারায় থাকলেও ব্যাংকগুলোয় ডলারের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। দ্রুত এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব না হলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে।

অতীতেও আমরা লক্ষ করেছি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি। জানা যায়, অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে অধিক মুনাফার প্রবণতা বেড়েছে। বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজিও চলছে।

এসব কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এ সমস্যাগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সৃষ্টি হলেও তা বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে এখন সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়।

এজন্য শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে যাতে কোনো সংকট না থাকে, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় সব ধরনের বাধা দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের সামনে বর্তমান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।

লক্ষ করা যায়, কোনো পণ্যের মূল্য একবার বাড়লে সেটি আর সহজে কমে না। এক জরিপের তথ্য থেকে জানা যায়, পণ্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, অদক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা, পণ্য পরিবহণের উচ্চমূল্য, বাজার আধিপত্য ও উৎপাদনকারীদের খুচরা বাজারে প্রবেশের সীমিত সুযোগ ইত্যাদি কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code