

বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে দুর্ঘটনার সময়কাল, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে নানা বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরই মধ্যে মাইলস্টোনের শিক্ষিকা পূর্ণিমা দাসের একটি ফেসবুক পোস্ট ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে দেওয়া পোস্টে পূর্ণিমা দাস দাবি করেন, দুর্ঘটনার মিনিট তিনেক আগেই স্কুল ছুটি হয়ে গিয়েছিল এবং প্রায় সব শিক্ষার্থী তখন স্কুল ত্যাগ করেছিল। তিনি আরও জানান, নিজেও আগুনে আটকা পড়েছিলেন এবং ‘স্কাই সেকশন’-এ কেবল একটি শিশুই দাঁড়িয়ে ছিল। এছাড়া, তিনি জানান, কিছু শিক্ষার্থী ‘ক্লাউড’ সেকশনে অবস্থান করছিল এবং কয়েকজন শিক্ষক হতাহতের শিকার হন।
তবে তার এই দাবিকে কিছুটা চ্যালেঞ্জই করেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। পূর্ণিমার পোস্টের কিছু সময় পরে একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে সাদিয়া আয়মান জানান, পূর্ণিমা দাসের বক্তব্য তাকে ‘খুব বিরক্ত করেছে’।
সাদিয়া বলেন, “স্কুলের হেড পিয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী স্কুল ছুটি হয় ১টা ৩০ মিনিটে। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয় ১টার কিছু পর, তখনও ক্লাস চলছিল। তাহলে দুই দিন পর এসে একজন শিক্ষিকা কীভাবে দাবি করেন যে স্কুল ১টায় ছুটি হয়ে গিয়েছিল?”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “স্কাই সেকশনে কেবল একজন বাচ্চা ছিল— এই বক্তব্যের সঙ্গে কীভাবে মিলবে নিহত জুনায়েদ বা রাইসা মনির মতো অনেক শিশুর মৃত্যু? ক্লাসে এত বই-খাতা, ব্যাগ কীভাবে এল?”
সাদিয়ার মতে, শিক্ষিকার বক্তব্য বাস্তবতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “আপনার কথায় বলা কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আর শিক্ষক—তাদের সংখ্যা ৩০+ হলে সেটাকে ‘কিছু’ বলা যায় না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এখনও বহু পরিবার তাদের সন্তান কিংবা অভিভাবকের সন্ধান পাননি। এতগুলো মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির প্রেক্ষাপটে এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দুঃখজনক।”
পোস্টের শেষে অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “জানি না, আপনি কেন পুরো দুনিয়ার বিরুদ্ধে একটা স্ট্যাটাস দিলেন! পলিটিশিয়ানরা যখন সেটা শেয়ার করছে, তখন বিষয়টি আরও চোখে লাগছে।”