নিউজ ডেস্কঃ ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উত্তেজনা চরমে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন মিডিয়া, ন্যাটো ও জো বাইডেন সরকারের বিভিন্ন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘সীমান্তে রুশ সেনার উপস্থিতি নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়াবেন না। ইউক্রেনে যেকোনও সময় হামলা হতে পারে, এ ধরনের কথা বলায় আমাদের অর্থনীতির অনেক ক্ষতি হচ্ছে।’
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন মিডিয়া, ন্যাটো ও জো বাইডেন সরকারের বিভিন্ন মন্তব্যের জেরে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন জেলেনস্কি। সেখানে পশ্চিমাদের আতঙ্ক না ছড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের রাষ্ট্রদূত ও তাদের পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেশের ভেতরের এমন অস্থিতিশীলতাই এখন ইউক্রেনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।’
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন জো বাইডেন বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন রাশিয়া ফেব্রুয়ারি মাসেই ইউক্রেনে হামলা চালাবে। আবার এর মাঝে জার্মানির পররাষ্ট্র গোয়েন্দা দফতর জানালো, তাদের তথ্য বলছে, ইউক্রেনে হামলা চালাতে রাশিয়ার সব প্রস্তুতি থাকলেও তারা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ন্যাটো মহসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ জানালেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পূর্ব ইউরোপে তাদের জোট আরও সেনা মোতায়েনে প্রস্তুত। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাশিয়া এরইমধ্যে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া হাজারো সেনা মোতায়েন করেছে এবং বেলারুশে ক্ষেপণাস্ত্রও বসিয়েছে।
এদিকে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বলেন, যুদ্ধ চায় না রাশিয়া।
দেশটির মিডিয়াকে ল্যাভরভ বলেন, ক্রেমলিন কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে মস্কো ছাড় দিবে না।
রুশ এই মন্ত্রী আরও বলেন, ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। ন্যাটো থেকে পাওয়া প্রস্তাবগুলোর চেয়ে মার্কিন প্রস্তাব ভালো।
এছাড়া ল্যাভরভ জানান, তিনি আশা করছেন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে সাক্ষাত হবে।
