

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন- অর্থনৈতিক বৈষম্য টিকিয়ে রাখতেই দেশে আজকে অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। তিনি রাজনীতির গণতন্ত্রায়নের জন্য সংগ্রাম গড়ে তুলতে উপস্থিত রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সিপিবি’র ৭০ বছর উপলক্ষে মঙ্গলবার বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
ড. রেহমান সোবহান আরো বলেন, আজ তোতা পাখির মতো ‘স্বাধীনতার চেতনা’ শব্দটি ব্যবহার হলেও আসলে স্বাধীনতার চেতনা কী, সেটি বুঝতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়েই মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় অর্জিত হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন সেই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা কি আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিল মেহনতি মানুষ। বর্তমান বাংলাদেশে যে সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তার পেছনে রয়েছে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের অবদান। বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকরা, প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনছে। কৃষকরা কৃষি উৎপাদন পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফল প্রকৃত উৎপাদকরা পাচ্ছে না। প্রকৃত উৎপাদক কৃষক-শ্রমিকরা যাতে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে সেজন্য লড়াই গড়ে তুলতে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আগে এখানে তীব্র বৈষম্য ছিল। এসবের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগনকে খুব সহজেই বঙ্গবন্ধু সম্পৃক্ত করতে পেরেছেন তার অসামান্য গুনের কারণে। কিন্তু তিনি তো বামপন্থী ছিলেন না। তিনি শোষণের মর্মব্যাথা বুঝেই সাধারণের পক্ষে কাজ করেছেন, যা তাকে অনেক উচুস্থানে নিয়ে যায়। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এবং মরহুম তাজউদ্দিন আহমেদও সাদামাটা জীবন যাপন করতেন।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বাম মোর্চার সমন্বয়ক মোশরেফা মিশু এবং সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম।