অশান্ত বিশ্বে সি–মোদির বন্ধুত্বের বার্তা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাত বছর পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করেছেন। রোববার (৩১ আগস্ট) চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে সি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অস্থির ও জটিল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই চীন ও ভারতের জন্য সঠিক পথ হলো পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা।

Manual2 Ad Code

সি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের প্রতীকী ‘ড্রাগন’ ও ‘হাতি’ যেন একসঙ্গে নাচে। তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে পার্টনারশিপে এগোলে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল হবে। অন্যদিকে মোদি বলেন— ভারত পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থ।

Manual1 Ad Code

এই বৈঠকটি এমন সময়ে হলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন ও ভারতের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের কারণে পশ্চিমা চাপও বাড়ছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতীয় রপ্তানির ওপর বাড়তি ২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন এবং রুশ তেল–গ্যাস আমদানির কারণে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক দিয়েছেন। যদিও একই কারণে চীনের ওপর এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সি-মোদির ইতিবাচক বার্তা ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতকে চীনের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মোদি ও ট্রাম্পের সম্পর্কের টানাপোড়েনে সেই কৌশল বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ অবস্থায় চীন ভারতকে কাছে টানতে চাইছে।

রোববার এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া গত বছর থেকেই শুরু হয়। ২০২০ সালে হিমালয় সীমান্তে সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। তবে এরপর সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা প্রশমনে অগ্রগতি হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালু করেছে, তীর্থস্থান উন্মুক্ত করেছে এবং ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করেছে।

Manual2 Ad Code

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে উভয় নেতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুমেরুত্বের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাঁদের মতে, পার্থক্যকে বিরোধে রূপ না দিয়ে উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

Manual1 Ad Code

পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তিগতভাবে সি ও মোদির মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে, তবে উভয় পক্ষই বর্তমানে স্থিতিশীল সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে। ফলে তিয়ানজিন বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের একটি উষ্ণ অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক: এস

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code