নিউইয়র্কে শ্রদ্ধা ভালোবাসায় বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

নিউইয়র্কে গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পার্লামেন্টারিয়ান, সাবেক মন্ত্রী, বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। দেশবরেণ্য এ রাজনীতিবিদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ৬ ফেব্রুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের নিরব পার্টি হলে এক স্মরণ সভার আয়োজন করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার ফরাসত আলী। প্রধান আলোচক ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা তোফায়েল চৌধুরী।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদের সভাপতি রুহেল চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদারের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের মানব সম্পাদ সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার ও মির্জা মামুন রশিদ, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি শেখ আতিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন আজমল, সাবেক ছাত্র নেতা সাখাওয়াত আলী, তজম্মুল হোসেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসেন আহম্মদ মজুমদার, সাংবাদিক মনোয়ারুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম জিকু, যুবলীগ নেতা শেখ জামাল হুসেন, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট কফিল চৌধুরী, শ্যামল কান্তি চন্দ, সামিরুল ইসলাম বাবলু প্রমূখ। পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন তোফায়েল চৌধুরী এবং পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন রতন চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনীতিক কর্মী, সাংবাদিক সহ নানা শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন।
স্মরণ সভায় বক্তারা বলেন, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত শুধু একটি নাম নয় একটি ইতিহাস। রাজনীতির নান্দনিক শিল্পী। ছিলেন একজন সাহসী ও সৎ রাজনীতিক। গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর। দেশের যেকোন ক্রান্তিকালীন সময়ে ছিল তার অনস্বীকার্য ভূমিকা। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংসদ আজীবন মনে রাখবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। বাংলার গণমানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট আজ নেতৃত্ব শূণ্যতায় ভূগছে। শুধু সিলেটে নয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও আজ আমরা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের অভাব অনুভব করছি। শুধু সিলেটবাসীই নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সংসদ আজীবন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মনে রাখবে। বক্তারা বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সাধনায় হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রাণপুরুষ। সংসদীয় রাজনীতিতে স্থান করে নিয়েছেন অনন্য মর্যাদার আসন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অন্যায়, অত্যাচার, বঞ্চনা, বৈষম্য, শোসন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। কোন দিনও নীতি ও আদর্শের সাথে আপোষ করেন নি।
উল্লেখ্য, প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পরে ঢাকা সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি কিছুদিন আইন পেশায় যুক্তও ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকা সুরঞ্জিত ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ন্যাপ থেকে জয়ী হন। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন ন্যাপ থেকে। ১৯৭৯ সালের সংসদে নির্বাচিত হন একতা পার্টির প্রতিনিধি হয়ে। ১৯৯১ সালের সংসদে নির্বাচিত হন গণতন্ত্রী পার্টি থেকে।

Manual4 Ad Code

পঞ্চম সংসদের সদস্য থাকাকালেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পরে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ছিলেন আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ডেরও সদস্য। দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত নবম সংসদে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান ছিলেন।

Manual2 Ad Code

১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও অন্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তিনি। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মোট আটবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান। পরে ২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর তিনি রেলমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

Manual7 Ad Code

 

এদিকে, এর আগে সদ্য মৃত্যুবরণকারী সিলেটের চার বরেণ্য ব্যক্তি সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবু নছর, সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট লুৎফর রহমান, গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট ইকবাল আহমেদ চৌধুরী এবং বিশিষ্টি সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র। দোয়া-মাহফিল পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া। এসময় দেশ-প্রবাসে করোনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায়ও বিশেষ দোয়া করা হয়।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code