

আটঘরিয়া, (পাবনা ) :
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার হাজীপাড়া স্কুল কলেজ পড়–য়া পাঁচ বন্ধু রবিউল ইসলাম, নিরব, আসলাম মৃধা, নুর চাঁদ ও বাদশা মৃধা। আমতলা বসে এই বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নেয় একটি বিশাল আকারে ঘুড়ি বানাবো। তৈরি করে সাড়ে তের ফুট লম্বা ও সাড়ে চৌদ্দ ফুট চওড়া একটি ঢাউস ঘুড়ি। এই ঢাউস ঘুড়ি বানাতে সময় লাগে তিন দিন। ছন্দে ছন্দে তারা বলেন, চিলি করে ডিলিমিলি কোয়াড়ী করে টান, ঢাউস শালা উঠেই গেলে আরো সুতি আন। এই স্লোাগানকে সামনে রেখে ঢাউস, চিলি, কোয়াড়ি, ফেসকি, পথম, কানচ সহ বিভিন্ন ধরনের ঘুড়ি উড়াতে মেতে উঠেছে শিশুসহ বৃদ্ধারা।
প্রাণঘাতী করোনা প্রভাবে সকলের এখন ঘরই ঠিকানা। ঘরে বসে টিভি দেখে পেপার পড়ে পড়ে লুডু খেলে ফেসবুকে থেকেও সময় যেন আর কাটতে চাইনা। তাই তো নানা রংয়ের ঘুড়ি উড়িয়ে বিকেল কাটিয়ে দিচ্ছে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন শহরের বিভিন্ন এলাকার ছোট ও বয়স্ক মানুষ।
এক ঘেয়েমি থেকে বের হয়ে হাতের স্মার্ট ফোন রেখে নিজের বাড়ির উঠান কিংবা বাড়ীর ছাদে ছেলে মেয়ে শিশু উৎসব আকারে ঘুড়ি উড়াচ্ছে এক সাথে। ইচ্ছেমত ঘুড়ি উড়াতে উড়াতে কখনও পাশে থাকা ঘুড়িটির সুতি কেটে দিচ্ছেন। এতে আনন্দ যেন বাড়ছে। পাশাপাশি ছাদে ছেলে বুড়ো সবাই এই উৎসবে ইচ্ছে মত এই উৎসবে অংশ নিয়ে আকাশে রংিয়ে তুলছেন বিভিন্ন রঙে।
সেখানে বিখিন্ন রঙের আর নামের ঘড়ি আকশে উড়তে দেখা যায়। এই সেই নিয়মের হয়তো একটু ব্যক্রিমন হলো। লকডাউনে ছাদে উড়ছে ঘুড়ি। আর সেই ঘুড়ি[ উড়া দেখে পরিবারের সদস্যরা খানিকটা বিনোদনও পেয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠে সন্ধার পরে বাড়ীর ছাদে ও মাঠে দল বেঁধে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। সুতোয় যেন তাদের বিনোদন বেঁধেছে। সুতো দিয়ে আকাশে কাগজের রঙিন ঘুড়ি উড়িয়ে যেন নিজের মুক্ত মনের আনন্দ যোগান দিয়ে যাচ্ছে।
কিছু কিছু এলাকায় পরিবারের সকলেই দুপুরের পর ঘুড়ি উড়ানোর নেশায় মত্ত হচ্ছেন। এছাড়াও এই উপজেলা ঘুড়ি বিক্রির ধুম পড়েছে। বিভিন্ন নামের লাইটিং ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে। ১০০টাকা থেখে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে। রঙিন কাগজের পাশাপাশি এবার কানচ ঘুড়িও আছে। নকশা করা ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে। বিকেল হলেই নানা বয়সের মানুষ বেড়িয়ে পড়ছেন আকাশ কে রঙিয়ে দিতে বিভিন্ন রঙের ঘুড়ি হাতে। প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন কালীন একটি স্বস্তির নি:শ্বাস নিচ্ছে বলে জানান ঘুড়ি ওড়াতে আসা নানা বয়সের মানুষ।
শখের বয়সের ঘুড়ি উড়াতে এসে আবুল হোসেন জুয়েল জানান, ছোটবেলা থেকে ঘুড়ি উড়াতে খুব আনন্দ পাই। তাই পাশের কনন্দর্পপুর গ্রামের সিদ্দিক আলীর কাছ থেকে লাইটিং করা একটি ডাউস ঘুড়ি নগদ ৫০০টাকা দিয়ে কিনে সন্ধার পর আকাশে উড়িয়ে দেই। আমার এই শখ দেখে এলাকার ছোট বড় সবাই ঘুড়ি বানিয়ে শখ পুরন করছেন।