আট বছর পর হতে যাচ্ছে সিলেট আ.লীগের সম্মেলন

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

আকাশ চৌধুরীঃ দীর্ঘ ৮ বছর পর আগামী ৪ ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ঝিমিয়ে পড়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে চাঙ্গাভাব। সম্মেলন সামনে রেখে ইতোমধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন হয়েছে। কাউন্সিলর নির্বাচনের প্রক্রিয়াও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন চলছে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে এ সম্মেলন আয়োজন করার কথা রয়েছে।

Manual2 Ad Code

কমিটির শীর্ষ পদ কারা পাবেন এ নিয়ে শীর্ষ নেতাদের অনুসারী ও কর্মী-সমর্থকদের রয়েছে ভিন্নমত। নেতাকর্মীদের একপক্ষ মনে করেন, মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। আগামী সম্মেলনে তাকে কেন্দ্রীয় কমিটির আরও বড় পদ দেয়া হতে পারে। ফলে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি হতে দেয়া হতে পারে। তবে কামরান অনুসারীরা মনে করেন, এাবারও কামরানের উপরই আস্থা রাখেন দলীয় সভানেত্রী।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ নিজেও এবার সভাপতি পদে প্রার্থী। তবে সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়ে মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন কাউকে আনা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে।

Manual5 Ad Code

 

সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রাজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মফুর আলী সাবেক সিটি কাউন্সিলর ফয়জুল আনোয়ার আলাওর।

 

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, অধ্যাপক জাকির হোসেন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবির পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, পরিবেশ সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র দাস, শিক্ষা সম্পাদক ও সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তপন মিত্র।

 

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আনন্দমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আমরা বর্ধিত সভাও করে ফেলেছি। ওয়ার্ড কমিটিগুলোও গঠন করা হয়েছে।

 

সম্মেলনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জন নিয়ে তিনি বলেন, সবাই অনুমান নির্ভর কথা বলছেন। সম্মেলন মানে শুধু নেতৃত্বে রদবদল নয়। সম্মেলনের মাধ্যমে দল সুসংগঠিত হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হন। তাছাড়া জেলা বা মহানগর কমিটিগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী দেখেন।

 

এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, সম্মেলনের জন্য সাংগঠনিক প্রস্তুতি শেষ। কাউন্সিলর নির্বাচন চলছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনাও চলমান আছে।

 

Manual7 Ad Code

সম্মেলনে তার প্রার্থিতা নিয়ে তিনি বলেন, কে কোন পদে থাকবেন সেটা জানেন প্রধানমন্ত্রী। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন পদে প্রার্থিতা করছি না। তবে সম্মেলন আসলে কর্মী সমর্থকরা তাদের প্রিয় নেতাদের বড় পদে দেখতে চান। তাই তারা বিভিন্ন ভাবে প্রচার-প্রচারণা করেন। আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে। কর্মী সমর্থকরা চাচ্ছেন আমাকে একটি পদে দেখতে। তাই তারা ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে নিজেদের সমর্থন দিচ্ছেন।

Manual8 Ad Code

 

বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আন্দোলন বা নির্বাচন সব জায়গায়ই সাংগঠনিক শক্তি প্রয়োজন। সঠিকভাবে দল পরিচালনা করতে হলে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও একতা খুব জরুরি।

 

এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী বিজিত চৌধুরী বলেন, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে কাজ করেছি। স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে সবসময় রুখে দাঁড়িয়েছি। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য প্রতিনিয়ত কর্মীদের উৎসাহিত করেছি। এখন তারা চায় নতুন নেতৃত্ব। তাই এ পদে আমাকে দেখতে তারা প্রচারণা করছেন।

 

আরেক সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী এটিএম হাসান জেবুল বলেন, নতুন কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটতে পারে। যারা স্বচ্ছ ইমেজের, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তারা এবার মূল্যায়িত হবেন বলে মনে করেন জেবুল।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code