

সম্পাদকীয়:
দখল-দূষণের কারণে দেশের বেশিরভাগ নদ-নদী এখন মৃতপ্রায় অবস্থায় টিকে আছে। রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়, সারা দেশের নদ-নদীগুলো কতটা দখল-দূষণের শিকার। দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী ও খাল দখল করে বিভিন্ন রকম স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। নদী ও খালগুলোর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং দূষণবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হলেও এসব অভিযানের সুফল কেন মিলছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। বস্তুত যারা যেভাবে পারছে নদী ও খাল ভরাট করে দখলে মেতে উঠেছে।
বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করতে হাজারীবাগের চামড়াশিল্প সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। এখন সাভারের চামড়াশিল্পের কারণে ধলেশ্বরীতে ভয়াবহ দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। কেবল ধলেশ্বরীই নয়, দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে আরও কয়েকটি নদীতে। ট্যানারির বর্জ্যে রয়েছে ক্রোমিয়ামসহ নানা বিষাক্ত রাসায়নিক, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দূষণের শিকার নদীগুলোর পানি গবাদিপশুর গোসলেরও উপযুক্ত নয়।
এসব নদীর পানি সেচকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বস্তুত ট্যানারি থেকে নির্গত কঠিন ও তরল বর্জ্য নদীর পানিতে মেশার কারণে তা আমাদের খাদ্যচক্রেও প্রবেশ করছে। এদিকে বুড়িগঙ্গা এখনো নানাভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে।
দেশে নদ-নদী দখলের যে মহোৎসব চলছে, তা নদী রক্ষায় গঠিত সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যেও অতীতে স্পষ্ট হয়েছিল। এরপর গত সরকারের আমলে নদী রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল তা আর জানা যায়নি। আমরা লক্ষ করেছি, বিভিন্ন সময়ে নদী দখলের সঙ্গে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত ছিলেন। এখন সময় বদলেছে। বিগত সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। নদ-নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করার এটাই ভালো সময়। দেশের সব নদী ও খাল দখলমুক্ত করার পাশাপাশি এগুলো যাতে নতুন করে দখল না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।