আপত্তি সত্ত্বেও আরপিও বাতিলে অনড় ইসি!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ বাতিল করে নতুন দুটি আইন করার উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির আপত্তি উপেক্ষা করে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন নামে নতুন দুটি আইনের খসড়া ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে কমিশন। চলতি সপ্তাহেই খসড়া দুটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

Manual6 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

যদিও বর্তমান আরপিও বাতিল করে নতুন আইন করা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে খোদ ইসিতে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আরপিও বাতিলের প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আরপিও বাতিল করে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন করার প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ফের পাঠানোর কোনো দরকার নেই। কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে তা জানি না। তবে আরপিও থেকে রাজনৈতিক দলের অনুচ্ছেদটি বাদ দিয়ে আলাদা আইন করা জরুরি বলে মত দেন তিনি। রাজনৈতিক দলের জন্য আলাদা আইন করার যুক্তি হিসাবে তিনি বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে ২০০৮ সালে তাড়াহুড়ো করে আরপিওতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন অনুচ্ছেদটি সংযুক্ত হয়। আরপিও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার চাবিকাঠি। এখন যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেহেতু আরপিও থেকে ঐ অনুচ্ছেদটি নিয়ে আলাদা আইন করা জরুরি।

 

Manual1 Ad Code

যদিও রাজনৈতিক দলগুলো ইসির প্রস্তাবের বিষয়ে মতামতে আরপিওকে অক্ষুণ্ন রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আরপিও থেকে ৯০ অনুচ্ছেদ বের করে দিয়ে আলাদা আইন প্রণয়নের বিপক্ষে দলগুলো। আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২-এর বাইরে আলাদা আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। প্রস্তাবিত আইনের বিধানবলি পূর্বের ন্যায় আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত থাকা সমীচীন। কারণ আরপিও ১৯৭২ সালে জাতির পিতার নিজের হাতে করা আইন। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তবে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সময়ে সময়ে এটি সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু এর অংশ নিয়ে আলাদাভাবে আইন প্রণয়ন করা ঠিক হবে না।

আরও পড়ুন: হঠাৎ সক্রিয় আন্ডারওয়ার্ল্ড

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে বিএনপি জানিয়েছে, আরপিও থেকে পৃথক করা রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনের প্রস্তাবে মৌলিক বিধানবলি অক্ষুণ্ন রাখা হয়নি বলে এটি উদ্দেশ্যমূলক। এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাব চূড়ান্ত করা উচিত হবে না। আইন প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।

জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) বাংলায় রূপান্তর করে আইনে রূপ দিতে চেয়েছিল কমিশন। সেই আলোকে ইসির আইন সংস্কার কমিটি আরপিও বাংলায় করে প্রস্তাবও প্রস্তুত করে। কিন্তু সেই প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সময় মৌলিক ও পদ্ধতিগত ১০টি ধারার ১১টি উপধারা বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম তপশিল ঘোষণা, কমিশনের প্রার্থিতা বাতিল, ভোটকেন্দ্রের ভোট বন্ধ, এজেন্ট নিয়োগ, জামানত বাজেয়াপ্ত ইত্যাদি।

আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দফা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পাঠানো আরপিও সংশোধনী প্রস্তাব অসংগতিতে ভরপুর। প্রথম বার পর্যবেক্ষণ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এবার মৌলিক ও পদ্ধতিগত অনেক বিষয় বাদ দিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এবারও এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তবে এটি আইনে রূপ নিচ্ছে না বলে ইসিকে পরোক্ষভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, আরপিওর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জড়িত। আরপিওকে আলাদাভাবে আইন করার বিশেষ কোনো কারণ নেই। আরপিও সংশোধন চলমান প্রক্রিয়া। এটি করা যেতে পারে। তবে ব্যাপক আকারেও সংশোধনের প্রয়োজন নেই। কেননা আমাদের বর্তমান সমস্যা নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে। আরপিও নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

প্রসঙ্গত, নোট অব ডিসেন্টে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’ রহিতপূর্বক সংশোধনসহ ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ২০২০’ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি এই উদ্যোগের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি। এটি একটি ঐতিহাসিক আইনগত দলিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। কী কারণে বা কোন যুক্তিতে এই পরিবর্তন প্রয়োজন, তা আমার বোধগম্য নয়।’

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code