আমদানি-রপ্তানিতে মন্দা: খালি কনটেইনারের স্তূপ বড় হচ্ছে আইসিডিতে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: ডলার-সংকটে কমছে আমদানি, ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে রপ্তানিতেও। বিলাসী পণ্যে খরচ কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হলেও শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এর চাপ পড়েছে। ডলারের দুর্মূল্যের কারণে এখন অত্যাবশ্যক পণ্য আমদানির ঋণপত্র খুলতেও হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোগুলোয় (আইসিডি) বাড়ছে খালি কনটেইনারের স্তূপ।

Manual1 Ad Code

দেশে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক বেসরকারি আইসিডি রয়েছে ১৯টি। এসব আইসিডি মোট রপ্তানি পণ্যের ৯৭ শতাংশ এবং আংশিকভাবে ৩৮টি আমদানি পণ্যের ২৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আইসিডিগুলোর মালিক সংগঠনের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতিটি আইসিডিতেই বিদেশগামী রপ্তানি পণ্যের কনটেইনারের স্তূপ জমছে। বেসরকারি ১৯টি আইসিডিতে এক মাসের ব্যবধানে খালি কনটেইনারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭ হাজারটি। আগস্টে খালি কনটেইনার জমা ছিল ৪৫ হাজার ৭৮৮টি। আর সেপ্টেম্বরে এসে খালি কনটেইনার জমা পড়েছে ৫২ হাজার ৭২১টি। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে খালি কনটেইনার যোগ হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৩টি। প্রতি মাসেই এ সংখ্যা বাড়ছে।

Manual7 Ad Code

আইসিডি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ূম খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বেসরকারি আইসিডিতে খালি কনটেইনার বেড়েই চলেছে। আসলে বৈশ্বিক কারণেই অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতিই একটু খারাপ। এটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে যাওয়ার মানে হলো বিশ্ববাজারে আমাদের পণ্যের চাহিদা কমেছে। আর চাহিদা কমছে মানে, বিশ্ববাজারে ভোক্তারাও কৃচ্ছ্রসাধন করছেন। তাঁরাও চাপে আছেন।’ আমদানি কমার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ডলার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রপ্তানিতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)

Manual8 Ad Code

তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরে রপ্তানি আয় এসেছে ৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের অক্টোবরে ছিল ৪ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। মূলত প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণেই চলতি বছরের অক্টোবরের সার্বিক রপ্তানি ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ শতাংশ। কিন্তু পরের মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার কমে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে মাছ, কৃষিপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্যের পাশাপাশি হোম টেক্সটাইল থেকে রপ্তানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
বেসরকারি আইসিডি দিয়ে আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার ব্যবস্থাপনা খুব কমই হয়। তারপরও আগস্টের চেয়ে সেপ্টেম্বরে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ১ হাজার ৪৭৪ কোটি ৯০ লাখ (১৪.৭৫ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।

Manual4 Ad Code

এদিকে আমদানি-রপ্তানির খরায় সরকারের রাজস্ব আয়ও কমছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম ভ্যাটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে বলেন, খালি কনটেইনার জমা হওয়াটা অনেক ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক চিত্রই তুলে ধরছে। দীর্ঘ মেয়াদে এটিই প্রভাব ফেলছে রাজস্ব আয়ে। তিনি জানান, চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক মাস ধরে কাঙ্ক্ষিত ভ্যাট আদায় হচ্ছে না।

এ কথার সত্যতা মেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তৈরি রাজস্ব পরিসংখ্যানেও। এতে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এনবিআরের তিন খাতেই রাজস্ব আহরণের ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ভ্যাট আদায়ে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আয়করে ঘাটতি ৩ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। আর শুল্ক পর্যায়ে রাজস্ব ঘাটতি ২ হাজার ৫১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code