আরাকান আর্মি কারা, কী তাদের উদ্দেশ্য?

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা: প্রায় দশ বছর আগে আরাকানের (রাখাইন) আদিবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ২৬ তরুণকে নিয়ে গঠিত হয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বর্তমানে এই গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা সাত হাজারেরও বেশি। রাখাইনের স্বাধীনতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র আন্দোলন করে আসা আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইন রাজ্যে অনেকাংশে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষমও হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সম্প্রতি রাখাইনের বুথিডংয়ে পুলিশের চারটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় আরাকান আর্মির কয়েকশ সদস্য। ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি এবং আকাশ থেকে আরাকান আর্মিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর প্রেক্ষিতে পাল্টা আক্রমণ করা হয়েছে বলে দাবি আরাকান আর্মির। হামলায় পুলিশের ১৩ সদস্য নিহত হন। এছাড়া আরাকান আর্মি ১৮ পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারকে অপহরণ করে। পরে অবশ্য পরিবারসহ ওই পুলিশ সদস্যদের ছেড়েও দেয় তারা।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর কঠোর অভিযান শুরু হলে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সাড়ে সাত লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম। দেশটির সেনাবাহিনীর এমন বর্বরোচিত অভিযানের নিন্দা জানায় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক বেশ কিছু সংগঠন। জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
২০০৮ সালে মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের লাইজাতে অপর বিদ্রোহীগোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মির (কেআইএ) সহায়তায় আরাকান আর্মি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালে প্রকাশ্যে আরাকান আর্মি জানায়, রাখাইন রাজ্যকে মাতৃভূমি হিসেবে ফেরত পাওয়াই তাদের লক্ষ্য। ২০১৬ সালের শেষের দিক থেকে শান রাজ্যে উত্তরাঞ্চলীয় জোটের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কাচিনদের পাশাপাশি লড়াইয়ে নামে আরাকান আর্মির সদস্যরা। এখন মনে হচ্ছে, পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে অনেকদূর এগিয়েছে।
দেশটির জাতিগত সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আরাকান আর্মির আনুমানিক তিন হাজার সদস্য দেশটির চিন রাজ্যের পালেতোয়া এবং রাখাইন রাজ্যের কাইয়ুকতা, বুথিডং, রাথেডং ও পনিয়াগুনে তাদের ঘাঁটি করেছে।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে আরাকান আর্মির প্রায় সাত হাজার সদস্যের অর্থায়ন আসে কোথায় থেকে? আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো; প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের মাথায় সশস্ত্র এ সংগঠনটি কীভাবে তাদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। কেননা এখনও মিয়ানমারের কোনো অঞ্চল তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি।
এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) ও ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ) দেশীয়ভাবে তৈরি করে। চীনে তৈরি অস্ত্রও তাদের কাছে আসে। আরাকান আর্মির অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৬০ মেশিনগানও রয়েছে। দেশটির কালোবাজারে যার মূল্য আনুমানিক দশ হাজার ডলার।আরাকান আর্মির কাছে রয়েছে ব্যারেট এমআরএডি স্নাইপার রাইফেলস। থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তের কালো বাজারে যার মূল্য দশ হাজার ডলার। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, এ ধরনের স্নাইপার রাইফেল ব্যবহার করে ইসরায়েল সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের সশস্ত্র বাহিনী।
ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এই স্নাইপার রাইফেলের গুলিতে। ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কুকি বিদ্রোহীদের কাছ থেকেও এসব অস্ত্র ক্রয় করে আরাকান আর্মি।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code