আল্লাহর পুরস্কার পাবেন যাঁরা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: আজ খতমে তারাবিহতে পবিত্র কোরআনের সুরা হামিম সাজদার ৪৭ থেকে সুরা শুরা, সুরা জুখরুফ, সুরা দুখান ও সুরা জাসিয়া তিলাওয়াত করা হবে। ২৫তম পারা পড়া হবে। তারাবিহর এই অংশে আল্লাহর অনুগ্রহ, জান্নাত-জাহান্নাম, মানুষের অকৃতজ্ঞতা, আল্লাহর ওয়াদা, সব নবী-রাসুলের ধর্ম ইসলাম, সৃষ্টিজগতে আল্লাহর নিদর্শন, আল্লাহর ইচ্ছায় মানুষের সন্তান লাভ, নারীর সম্মান, কন্যাসন্তান আল্লাহর নিয়ামত, গুনাহের কারণে বিপদ, অবাধ্য জাতির পরিণতি, জাহেলি যুগের ঘৃণ্য প্রথা, আল্লাহর রহমত, আরবি ভাষায় কোরআন নাজিল ইত্যাদির বর্ণনা রয়েছে।

আজকের তারাবিহ শুরু হবে আল্লাহর মাহাত্ম্য ও কুদরত বর্ণনার মাধ্যমে। আল্লাহই শুধু অদৃশ্যের খবর জানেন। অদৃশ্যের জ্ঞানীও একমাত্র তিনি। এটা ইসলামের বিশ্বাসগুলোর একটি। ভবিষ্যতের বিষয় সম্পর্কে শুধু তিনিই জানেন। তিনি ছাড়া ভবিষ্যতের বিষয়ে কেউ কিছু জানেন না; এমনকি নবী-রাসুল। তবে তিনি নবী-রাসুলদের যা জানিয়েছেন, তা তাঁরা জেনেছেন। তাঁর জ্ঞানের বাইরে জগতের কিছুই নেই। তাঁর জানার বাইরে ফল আবরণ মুক্ত হয় না, কোনো নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কিয়ামতের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই জানা। তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো ফল আবরণ মুক্ত হয় না এবং কোনো নারী গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসব করে না।’ (সুরা হামিম সাজদা, আয়াত: ৪৭)

Manual5 Ad Code

সুরা হামিম সাজদার ৫০ থেকে ৫১ নম্বর আয়াতে আছে, দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর যখন আমি তাকে দয়া করে সুখের স্বাদ দিই, তখন মানুষ বলতে থাকে, ‘এটা তো আমার প্রাপ্যই ছিল। আমি তো মনে করি না কিয়ামত বলে কিছু আছে।… আবার যখন মানুষ বিপদে-আপদে অমঙ্গলে পড়ে যায়, তখন সে দীর্ঘ প্রার্থনায় বসে যায়।’ এই আয়াতে মানুষের অকৃজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরেছেন আল্লাহ তাআলা। বিপদে পড়লে মানুষ আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় নতজানু হয়। এমনভাবে আল্লাহকে ডাকে, যেন আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কিছু তার কল্পনায় নেই। আল্লাহই তার সব; তিনিই একমাত্র মালিক। মানুষ তাঁর গোলাম। কিন্তু বিপদ দূর হলে ভুলে যায় আল্লাহকে। সুখের নদীতে ডুবে ভুলে যায় দুঃখ মোচনকারীকে। অনেককে অহংকার পেয়ে বসে। সুখকে নিজের প্রাপ্য মনে করে।

Manual4 Ad Code

সব নবী-রাসুলদের ধর্ম এক

কোরআনের ৪২তম সুরা শুরা মক্কায় অবতীর্ণ। এর আয়াতের সংখ্যা ৫৩। এ সুরার ১৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘অবস্থার এই প্রেক্ষাপটে (হে নবী) তাদেরকে আহ্বান কোরো (দ্বীনের প্রতি), আর তোমাকে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে তুমি তার প্রতি সুদৃঢ় থাকো, আর তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না। আর বলো, আল্লাহ যে কিতাবই অবতীর্ণ করেছেন, আমি তার প্রতি ইমান এনেছি…।’ আল্লাহর কাছে দ্বীন একটাই—ইসলাম। সব নবী-রাসুল এই দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাঁরা সবাই ছিলেন মুসলিম। তবে নবী-রাসুলদের শরিয়ত এবং শাখাগত বিধিবিধান ছিল ভিন্ন ভিন্ন। আর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বাসীদের নাম মুসলিম রাখেন ইবরাহিম (আ.)।

সুরা শুরার ৩৬ থেকে ৪০ নম্বর আয়াতে কিছু গুণের কথা আছে। যাঁদের মধ্যে এ গুণ থাকবে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি খুশি হবেন। তাঁদের পুরস্কৃত করবেন। গুণগুলো হলো এক. ইমানদার, দুই. আল্লাহর ওপর ভরসাকারী, তিন. কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে যে দূরে থাকে, চার. ক্ষমাকারী, পাঁচ. আল্লাহর ডাকে সাড়াদানকারী, ছয়. নিয়মিত নামাজ আদায় করে, সাত. পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে কাজ করে, আট. দান-সদকা করে এবং নয়. নির্যাতিত হলে সমান সমান প্রতিশোধ গ্রহণ করে।

Manual8 Ad Code

আল্লাহর সেরা দান কন্যাসন্তান

Manual5 Ad Code

৮৯ আয়াতবিশিষ্ট সুরা জুখরুফ মক্কায় অবতীর্ণ। এটি কোরআনের ৪৩তম সুরা। জুখরুফ শব্দটি সোনা বা সৌন্দর্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ সুরার ৩৫ নম্বর আয়াতে সোনার আলোচনা থাকায় এর নাম জুখরুফ রাখা হয়েছে।

এ সুরার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের কাউকে যখন সংবাদ দেওয়া হয় সেই সন্তানের (কন্যা), যা তারা দয়াময় আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, তখন তার মুখমণ্ডলে কালিমা ছেয়ে যায়, আর মন দুঃখ–বেদনায় ভরে যায়।’ কন্যাসন্তান আল্লাহর সেরা দান। তারা মা-বাবার জন্য পৃথিবীতে জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে। জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানের মূল্যায়ন ছিল না। কন্যাসন্তানকে তারা অপমানজনক কাজ মনে করত। কন্যা হলে বাবাদের মুখ কালো হয়ে যেত। কন্যাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলত। ইসলাম এমন ঘৃণ্য কাজকে নিষিদ্ধ করেছে। কন্যাকে সম্মান দিয়েছে। কন্যার পিতাকে জান্নাতের শুভ সংবাদ দিয়েছে। বর্তমানেও কন্যাসন্তান হলে অনেকেই মন খারাপ করে। ছেলে হলে খুশি হয়। এই বৈষম্য গুনাহ।

ধোঁয়ার নামে সুরার নাম

কোরআনের ৪৪তম সুরা দুখান মক্কায় অবতীর্ণ, এর আয়াতের সংখ্যা ৫৯। দুখান অর্থ ধোঁয়া। মক্কার অবিশ্বাসীরা দুর্ভিক্ষের দিনে যে ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা দেখতে পেয়েছিল, ১০ নম্বর আয়াতে তার আলোচনা থাকায় এর নাম রাখা হয়েছে সুরা দুখান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে জুমার রাতে সুরা দুখান পাঠ করবে, সকাল হওয়ার আগেই তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮৯)

এই সুরায় কোরআন নাজিলের ঘটনা, বরকতময় রাত, আল্লাহর একত্ববাদ ও সৃষ্টিজগতে আল্লাহর মহত্ত্বের নানা নিদর্শন, কোরআন ও পুনরুত্থান দিবস সম্পর্কে অবিশ্বাসীদের সন্দেহ, মুসা (আ.)-এর বিরুদ্ধাচরণে বনি ইসরাইলের পরিণাম, অবিশ্বাসীদের পরিণতি ও শাস্তি, সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব উদ্দেশ্যবিহীন না হওয়া, কিয়ামতের দিন কেউ কারও উপকারে না আসা, দোজখবাসীর শাস্তি ও খোদাভীরুদের পুরস্কার বেহেশত সম্পর্কে বয়ান রয়েছে।

সুরা জাসিয়ায় কিয়ামতের বর্ণনা

মক্কায় অবতীর্ণ সুরা জাসিয়া ৩৭ আয়াতবিশিষ্ট। ‘জাসিয়া’ শব্দের অর্থ হাঁটু গেড়ে বসা। কিয়ামতের দিন মানুষ ভয়ে হাঁটু গেড়ে বসে পড়বে। সুরায় এ ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা আছে, তাই এটিকে জাসিয়া বলা হয়। এ সুরায় আল্লাহর বড়ত্ব, একত্ববাদ, কুদরত, সৃষ্টিজগতের নিদর্শন, অবিশ্বাসীদের পরিণাম, বনি ইসরাইলকে দেওয়া আল্লাহর নিয়ামত, তাদের অবাধ্যতা ও কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতার বিবরণ রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code