

বিশেষ প্রতিবেদন:ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা শহীদ আসাদ (আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান)। পুলিশের গুলিতে আসাদের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৎকালীন ছাত্র-জনতার মাঝে মারাত্মক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের নামফলক বদলে শহীদ আসাদের নামে করা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার প্রবেশমুখে আইয়ুব গেটের নাম বদলে আসাদ গেট করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই স্থানে শহীদ আসাদ স্মরণে তৈরি করা হয় তোরণ। তবে সেই তোরণ এখন বেহাল।
দেখা যায়, শহীদ আসাদ গেট তোরণটি ছেয়ে গেছে পোস্টারে। খসে পড়েছে টাইলস। ময়লা জমে আছে তোরণের ওপরে এবং আশপাশে। আসাদের প্রতিকৃতিতে জমেছে ময়লার আস্তরণ। দেখে বোঝার উপায় নেই—এটি দেশের এক সূর্য সন্তানের। পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গেট সংলগ্ন সড়কটিতেই শুধু টিকে আছে আসাদের নাম।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস আসলেই স্মৃতি ফলকটি ধোয়ামোছার কাজ করা হয়। আয়োজন করা হয় সমাবেশ। তবে বছরের পর বছর পাড় হলেও করা হয় না কোনও সংস্কার, নেওয়া হয় না তোরণে পোস্টার লাগানো বন্ধের ব্যবস্থা।
কথা হয় ঢাকা উদ্যানের স্থানীয় বাসিন্দা সেলিনা আক্তার শেফালীর সঙ্গে। তিনি আসাদ গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাসের অপেক্ষায়। সঙ্গে তার ৮ম শ্রেণিতে পড়া ছেলে সাহির হাওলাদার। প্রায় বিশ বছর ধরেই মোহাম্মদপুর বসবাস করছেন। প্রতিনিয়তই ব্যবহার করেন আসাদ গেটের এই সড়কটি। আসাদ গেটকে কেবলই একটি সড়কের নাম হিসেবেই এতদিন জানতেন তিনি।