ইংল্যান্ডে উৎস বিহীন ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ হারালেন এক ব্যবসায়ী

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

লন্ডন ( যুক্তরাজ্য ) অফিস :

ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মতো আনএক্সপ্লেইনড ওয়েলথ অর্ডারের প্রয়োগ  উৎসবিহীন ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ হারালেন এক ব্যবসায়ী।

ইংল্যান্ডে এই প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার আইন প্রয়োগ করে সফল হয়েছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।

Manual5 Ad Code

অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত না হলেও সম্পদের উৎস দেখাতে বা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে সেই সম্পদ রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দিতে হবে।

Manual8 Ad Code

২০১৭ সালের ক্রিমিনাল ফাইনান্স এ্যাক্টের ধারা আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার প্রয়োগ করে এক ব্যবসায়ীর নগদ অর্থসহ প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ নিয়ে গেছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।

নিজে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত না হয়েও আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডারের অধিনে লন্ডন, চেশায়ার এবং লিডসে ৪৫টি প্রোপার্টি, নগদ ৬শ হাজার পাউন্ড, চারটি খালি জায়গা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিকে হস্তান্তর করতে বাধ্য হয়েছেন লিডসের প্রোপার্টি ব্যবসায়ী মানসুর হোসাইন।

৪০ বছর বয়সী মানসুর হোসাইন স্থানীয়ভাবে মানি হোসাইন নামেও পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমেও ছিল তার বেশ খ্যাতি।

ব্রাডফোর্ড এলাকায় সংঘবদ্ধ একটি অপরাধ চক্রের তদন্ত করতে গিয়ে মানুসর হোসাইনের পেছনে লাগে ন্যাশনাল ক্রাইস এজেন্সি। একটি হত্যার অভিযোগে ২০১৯ সালে ২৬ বছরের জেল দন্ডে দন্ডিত ব্র্রাডফোর্ডের গ্যাং লিডার মোহাম্মদ নাসির খান এবং উত্তর ইংল্যান্ডের ভয়ানক গ্যাংস্টার এবং সশস্ত্র ছিনতাই মামলার আরেক সাজাপ্রাপ্ত ডেনিস স্ল্যাডের সঙ্গে মানসুর হোসাইনের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।

Manual3 Ad Code

বিশেষ করে তিনি লিডস এবং ব্রাডফোর্ড এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন বলে সন্দেহ করতে থাকে তদন্তকারীরা। অবৈধভাবে অর্থপাচারসহ চারটি মামলা করা হয় তার বিরুদ্ধে।

Manual6 Ad Code

এর মধ্যে সশস্ত্র ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযুক্ত স্ল্যাডকে লিডসে সাত বেডরুমের ঘরে বিণা ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ এবং পরবর্তীতে তাকে একটি এপার্টমেন্ট কিনে দেওয়ার প্রমাণও পায় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। অন্যদিকে দন্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ খান, যাকে স্থানীয়ভাবে ম্যাগি খান ডাকা হয়, তা সঙ্গে ২০০৫ সাল থেকে মানুস হোসাইনের ঘনিস্টতা রয়েছে বলেও প্রমাণ পায় ক্রাইম এজেন্সি। ম্যাগি খানের ভাই শমসেরকে ১ লাখ ৩৪ হাজার পাউন্ড অর্থ সহায়তা দিয়ে তার সম্পদ বাজেয়াপ্তের অর্ডারও বাতিল করতে সহযোগিতা করেন তিনি।
এদিকে হাইকোর্টে তার বিরুদ্ধে চলা মানি লন্ডারিং মামলায় সম্পদের উৎস জানতে চায় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। তবে এ নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করে কোর্টের বাইরে আপোষ করেন মানসুর হোসাইন। তার বিরুদ্ধে এই প্রথমবারে মতো ইংল্যান্ডে কোনো বিরুদ্ধে কোর্টের আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার আরোপ করে সফল হয় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। শুধু তাই নয়, একাউন্টস ফ্রিজিং অর্ডার প্রয়োগ করে মানসুর হোসাইনের সমস্ত ব্যাংক একাউন্টও জব্দ করা হয়।

যদিও আদালতে মানসুর হোসাইনকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি। তবে মানি লন্ডারিং মামলায় সম্পদের উৎস প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ ও নগদ অর্থ হস্তান্তর করতে বাধ্য হন তিনি। তার কাছে এখন মাত্র ছোট আকারের চারটি প্রোপার্টি রয়েছে, যেগুলোর এখনো মর্গেজ পরিশোধ করতে হচ্ছে। আর সন্দেহের বাইরে থাকা কিছু নগদ অর্থ এবং ব্যাংক একাউন্ড খোলা রয়েছে মানসুর হোসাইনের। গত ২৪ অগাস্ট কোর্টের বাইরে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির সম্পদ ফিরিয়ে দিয়ে সমঝোতা করেন মানসুর হোসাইন। আর ২ অক্টোবর, হাইকোট তার উৎস বিহীন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code