ইতিমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়া রাশিয়া সম্প্রতি তাদের মিত্র চীনের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা করেছে। ওই আলোচনায় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং রাশিয়াকে সমর্থন করার কথা বলেছেন।
পশ্চিমা গোয়েন্দারা বলছেন, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে এক লাখের বেশি সেনা জড়ো করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, জানুয়ারির শেষ নাগাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে মস্কো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
গত বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেনের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়। উরসুলা বলেন, যে ক্ষেত্রগুলোর কথা ভাবা যায়, সবকিছু লক্ষ্য করেই বাড়তি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট। রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়, তবে পরিণতি গুরুতর হবে।’
রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা হতে পারে রাশিয়া থেকে জার্মানিতে নির্মিতব্য নর্ড স্ট্রিম টু নামের নতুন গ্যাস পাইপলাইনের ওপর।
ব্রাসেলসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের সাক্ষাতের পর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট এ হুঁশিয়ারি দিলেন। ওই বৈঠকে মাখোঁ ও শলৎজ রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।
এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর শলৎজ বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের সীমান্ত সমস্যা গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেকোনো আঞ্চলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের পদক্ষেপের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
বুধবার রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রায়াবকভ ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারেন ডনফ্রাইডের কাছে একটি প্রস্তাব দেন। বর্তমানে ইউরোপের নানা বিষয় নিয়ে মস্কোতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ডনফ্রাইড।
রাশিয়া তাদের সীমান্তে পশ্চিমাদের অস্ত্র মোতায়েন নিয়ে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়।
তবে সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়া এবং পশ্চিমের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, রাশিয়ার দিক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তাই তাদের একজোট হতে হবে।
