

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৮৪ শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৯৯২ জন। আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এসব জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় শিশুদের বিরুদ্ধে ২৯০০টিরও বেশি যুদ্ধ-সম্পর্কিত অপরাধের তথ্য পেয়েছে। হত্যা, যৌন সহিংসতা, শিশুদের প্রতিষ্ঠান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর হামলা, নির্বাসন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং অপহরণের শিকার হয়েছে শিশুরা।
ইউক্রেন এবং কমিউনিস্ট-পরবর্তী অন্যান্য পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস পালন করে। দিনটি ঘিরে শহর, স্কুল এবং কমিউনিটিগুলো শিশু-কেন্দ্রিক নানা ইভেন্টের আয়োজন করে।
ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা বৃহস্পতিবার টুইটে লেখেন, ‘নিরাপদ শৈশব প্রতিটি শিশুর অধিকার। তবে আজ ইউক্রেনের শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে। কিয়েভে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা গোলাবর্ষণে হত্যা করেছে রুশ সেনারা। আরেকটি শিশু এখন হাসপাতালে ভর্তি।’
বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানায়, ২৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ২৫০০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ১৯ হাজার ৫০০’র বেশি ইউক্রেনীয় শিশুকে জোরপূর্বক রাশিয়া বা দখলকৃত অঞ্চলে নির্বাসিত করা হয়েছে। এইগুলো কেবল সরকারিভাবে নিবন্ধিত মামলা। প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে।
মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসনের একটি কথিত পরিকল্পনার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ান কর্মকর্তা মারিয়া লভোভা-বেলোয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট বিচারক পিওর হফম্যানস্কি মার্চে বলেছিলেন, আইসিসির সব সদস্য রাষ্ট্র আদালত কর্তৃক জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে বাধ্য।
ক্রেমলিন আইসিসির ক্রিয়াকলাপকে ‘আক্রোশজনক এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছে। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, রাশিয়া আদালতের এই এখতিয়ার মানে না।