ইফতার শেষে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাসে সন্ধ্যায় ইফতার ও তারাবির নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে মুসল্লিরা যখন ব্যস্ত ঠিক তখন ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর।

Manual5 Ad Code

রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার রামকান্তুপুর ইউনিয়নের মদনদিয়া এলাকায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার রামকান্তুপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. ইশারত হোসেনের সঙ্গে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ইমারত হোসেন পিকুলের বিরোধ চলে আসছিল।

ইশারত ও পিকুল আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই। তারা দুইজন গত ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে ইরাশত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেন পিকুল আর ইশারত কাজ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন মিয়ার পক্ষে। যে কারণে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হতে থাকে।

এ বিরোধের জেরে তিন দিন আগে পিকুলের সমর্থক ফজলুর সঙ্গে ইশারতের সমর্থক ওমরের কথা কাটাকাটি ও মারামারি হয়। ঘটনাটি নিয়ে ওই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। একপর্যায়ে রোববার সন্ধ্যায় ইফতারের পর উভয় গ্রুপের কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, টেঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের দফায় দফায় চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় পুরো এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় রণক্ষেত্র তৈরি হয়। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হন।

Manual1 Ad Code

আহতদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান ইশারতের বাবা আবুল কালাম (৬০), কুববাত আলী (২৮), আবজাল (৫০), ইদ্রিস আলী (৫২), ইউনুস শেখ (৬০), টিটুল (৪২), আছাদ (৪০), নাজিম মোল্যা (৭০), ইয়াদ আলী (৩০), মিরান (৩৫) ও আজিজ (২২) নামে কয়েকজনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে সংঘর্ষের সময় হামলা চালিয়ে পিকুল, মিরাজ, ফজলু, বাশার মাস্টার, ওমর মোল্যা ও ইসমাইলের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগ করা হয় একটি পাটকাঠির গাদায়ও।

Manual3 Ad Code

সোমবার দুপুরে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ ফায়েজুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় দুটি গ্রুপের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে দুই দিন আগে উভয় গ্রুপের নেতাদের থানায় ডেকে আনা হয়। পরে এলাকায় কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না মর্মে উভয় গ্রুপের নেতারা একটি অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন; কিন্তু রোববার সন্ধ্যার পর তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শটগানের ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৬টি টেঁটা, ১০টি কাতরা, ১১টি বাঁশের লাঠি, ৫টি ঢাল ও ১টি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে এক গ্রুপের (সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি) নেতা ইমারত হোসেন পিকুলসহ ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার বিকালে তাদের সহিংসতার মামলায় তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code