ইরানের ড্রোন হামলায় বন্ধ হয়ে গেল কাতারের গ্যাস উৎপাদন

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছে ইরান। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি। এর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র কাতারেও চলছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। এরই মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনীর ছোড়া ড্রোন জোরালো আঘাত হেনেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির দুটি স্থাপনায়। এ অবস্থায় সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতারএনার্জি।

Manual4 Ad Code

সোমবার (২ মার্চ) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ঘোষণা দিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিটি।বিবৃতিতে কাতারএনার্জি বলেছে, কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি ও মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির পরিচালনা কেন্দ্রগুলোতে সামরিক হামলা হয়েছে। যে কারণে কাতারএনার্জি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে।

Manual8 Ad Code

বিবৃতিতে অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন মেসাইদ এলাকার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত হেনেছে এবং অন্যটি রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির একটি জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার ফলে সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরূপণ করবে এবং এ বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ কাতার এবং বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম কাতারএনার্জি। ইরানের সামরিক বাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারএনার্জি গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় তা বিশ্ব বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন।

Manual6 Ad Code

প্রসঙ্গত, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের ওপর একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

Manual1 Ad Code

এদিকে খামেনির মৃত্যু হলেও ইরানে নিজের মিশন শেষ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ যৌথ হামলা চলতে থাকবে বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সে ধারাবাহিকতায় এখনও ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, আর এসব হামলায় কমপক্ষে ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সেই সঙ্গে ১৩১টি ইরানি কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে, একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়েনি ইরান। সমানতালে জবাব দিয়ে যাচ্ছে তারাও। সর্বশক্তি দিয়ে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে ঘোষণা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এখন একটি বৈধ অধিকার এবং পবিত্র দায়িত্ব। এই অপরাধের জবাব দিতে ইরান তার কাছে থাকা সব ধরণের শক্তি ও সামর্থ্য নিয়োগ করবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code