ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে ২৯ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত: গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ২৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) অঞ্চলটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানান, এটি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতার আরেকটি ভয়াবহ মাইলফলক।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের বিরুদ্ধে ‘পুরোপুরি বিজয়’ অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সৈন্যরা শিগগিরই মিশরীয় সীমান্তের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফায় চলে যাবে। সেখানে গাজার অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২৩ লাখ লোক আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭টি লাশ হাসপাতালে আনা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯২ জনে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক ও কতজন সৈনিক তার হিসাব দিতে পারেনি। তবে নিহতদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু বলে জানায়। এ যুদ্ধে ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। গাজায় হামাস পরিচালিত সরকারের অংশ হলেও হতাহতের বিস্তারিত রেকর্ড রাখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর হিসাব গাজায় আগের যুদ্ধগুলোর পরিসংখ্যান জাতিসংঘের সংস্থা, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ও ইসরাইলের নিজস্ব পরিসংখ্যানের সঙ্গে অনেকাংশে মিলে গেছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন শসস্ত্র বাহিনী গাজা থেকে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষকে হত্যা করে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে।
ইসরায়েলের হাতে বন্দি ২৪০ ফিলিস্তিনির বিনিময়ে নভেম্বরে সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতিতে শতাধিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। হামাসের কাছে এখনও প্রায় ১৩০ জন জিম্মি রয়েছে, যাদের এক চতুর্থাংশ নিহত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০০৭ সাল থেকে হামাস শাসিত অবরুদ্ধ ভুখণ্ডে সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

Manual1 Ad Code

ইসরায়েল বলছে, তারা কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি জঙ্গিকে হত্যা করেছে। সামরিক বাহিনী বলছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করে। এত বেশি মৃত্যুর জন্য হামাসকে দায়ী তারা। কারণ এই গোষ্ঠী ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় হামলা করে। সামরিক বাহিনী জানায়, অক্টোবরের শেষ দিকে স্থল অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ২৩৬ সেনা নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত করেছে এবং জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। নেতানিয়াহুর তিন সদস্যবিশিষ্ট যুদ্ধ-মন্ত্রিসভার সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল বেনি গান্টজ রবিবার হুঁশিয়ারি করেন, মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই জিম্মিদের মুক্তি না দেওয়া হলে এই আক্রমণ রাফা পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাসের পবিত্র মাসটি প্রায়ই এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির একটি সময়। আগামী ১০ মার্চ থেকে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভানা রয়েছে।

Manual6 Ad Code

ইসরায়েল বলেছে যে, তারা রাফাহ থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে বিধ্বস্ত অঞ্চলের কোথায় তারা যাবে তা পরিষ্কার নয়, যার বিশাল অঞ্চল সমতল হয়ে গেছে। মিশর সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে ফিলিস্তিনিদের যেকোনো গণ অনুপ্রবেশ ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক দশকের পুরোনো শান্তি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
ইসরাইলের শীর্ষ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা এখনো আরেকটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করতে মিসর ও কাতারের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেই প্রচেষ্টা থমকে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
নেতানিয়াহু হামাসের ‘বিভ্রান্তিকর’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। হামাস বলছে, ইসরাইল যুদ্ধ শেষ না করা পর্যন্ত এবং গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে না। সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের সদস্যসহ শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তিও দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: ইউএনবিডটকম।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code