

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাকর্মীর মুক্তি, গণগ্রেফতার বন্ধ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন তারা।
মানববন্ধনে দেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ দাবি করে ইসি সচিবের পদত্যাগের দাবি করেন শিক্ষকরা। তারা বলেন, ইসি সচিব বলেছেন বাংলাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ রয়েছে। বর্তমান বাংলাদেশের যে প্রেক্ষাপট তা হলে নির্বাচন হবে লক্ষ্মীপুরের নির্বাচনের মতো।
মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মহাসমাবেশ হয়েছে। সেই সমাবেশে হামলা করেছে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের সহযোগিতায় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। পুলিশ হাসপাতালেন সামনে অ্যাম্বুলেন্স পোড়ানো হয়, কিন্তু ওখানে অরক্ষিতভাবে থাকা আর কোনো গাড়ি পোড়ানো হয় না। আমাদের এত বোকা বানানো যাবে না। আমরা এগুলো বুঝি। পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে, বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করতে হবে। এই মুহূর্তে বিরোধী দল এবং মতের লোকদের নামে ৪০ লাখের ও অধিক মামলা রয়েছে। সারাদেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিতে যারা কথা বলে সেসব লোককে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হলে এদেশের মধ্যে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের দাম কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি এই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই করছে না। বিএনপি আন্দোলন করছে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আজকে যে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি চলছে তা কমানোর জন্য বিএনপি আন্দোলন করছে। জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কথা বলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালের মতো রাতের আঁধারে ভোট দেওয়ার মতো আরেকটি নির্বাচন করতে চায় সরকার। তাই সরকার সকল বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার করছে। এ রকম নির্বাচন যদি আবারও হয় এদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। এবার আর সরকার সাজানো গৃহপালিত বিরোধী দল নিয়ে পার পেতে পারবে না।
সাদা দলের আহ্বায়ক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, দেশ এই মুহূর্তে একটি চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানুষের অধিকার বলতে কিছুই নেই। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সামাজিক অধিকার এবং সর্বোপরি ভোটের অধিকার সেটিও বর্তমান সরকার নষ্ট করে পেলেছে। এই সরকারে মানুষের সকল মূল্যবোধকে ধ্বংস করে ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত এবং ক্ষুব্ধ। কেননা তারা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বিবেক। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে যখন গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে কিংবা সামজিক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটেছে সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে। জাতি সেই অবস্থান থেকে মুক্তি লাভ করেছে।