

নিউজ ডেস্কঃ
ফিলিস্তিনের গাজায় আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। পবিত্র ঈদের দিনেও গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একের পর এক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি জঙ্গী বিমান। এ পর্যন্ত ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় কয়েকশ বার বিমান হামলা চালিয়েছে।
কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা’র বরাতে জানা যায়, ইসরায়েলি বোমা হামলায় ১৭ শিশু ও ৮ অন্তঃসত্ত্বা-নারী সহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ জনে । এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩৯০ জন ফিলিস্তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে ঘুম থেকে উঠেই গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের হামলার শিকার হয়। সেখানে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হচ্ছে আকাশ থেকে। ঈদের দিন ইসরায়েলি হামলায় গাজার আরেকটি বহুতল ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া উপত্যকার রাফাহ শহরে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের আল-কুদস ব্রিগেড জানিয়েছে, বুধবার তেল আবিব, আশকেলন বি’র শেবা ও সেদরতে ১০০ রকেট ছুঁড়েছে তারা। হামাসের সামরিক শাখা ইযাদ্দিন আল-কাসসাম জানিয়েছে, তারা ইসরাইল অভিমুখে ২১০টি রকেট ছুঁড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, অব্যাহত হামলায় ৩৯০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। নতুন করে আরও একটি বহুতল ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গাজায় তিনটি বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, ইসরায়েল ও গাজার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিষদ দুটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেও কোনো বিবৃতি দিতে দেয়নি ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলার কঠোর নিন্দা এবং ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুর্নব্যক্ত করেছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। সম্প্রতি তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওআইসি ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলি দখলদারি কর্তৃপক্ষের বারংবার হামলার কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি ফিলিস্তিনি জনগণকে তার ভূমি থেকে উচ্ছেদ, জোর করে তাদের জমি দখল এবং ইহুদি বসতি নির্মাণেরও নিন্দা জানাচ্ছে।
গত শুক্রবার থেকে আল আকসা মসজিদকে ঘিরে উভয়পক্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মূলত এ থেকেই সংঘাতের সূত্রপাত। আল আকসা প্রাঙ্গণে গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩শ’রও বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ জেলা থেকে ৭০টির বেশি ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তা নিয়েই সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা শুরু হয়।
এদিকে পশ্চিমতীরে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে গত কয়েকদিনের উত্তেজনা-সংঘর্ষ সত্ত্বেও পবিত্র আল আকসা মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশ নিতে ফিলিস্তিনিদের ঢল নেমেছে। ইসরায়েলি হুমকি-ধামকি ও বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই আজ বৃহস্পতিবার (১৩ মে) মসজিদটিতে জামায়াতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কয়েক হাজার মুসল্লি।
আনাদুলো এজেন্সির বরাতে জানা যায়, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের ক্রমাগত বিমান হামলা ও আল-আকসায় তাণ্ডবের জেরে এবারের ঈদুল ফিতরের সব আয়োজন বাতিল ঘোষণা করেছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। কিন্তু এরপরও বৃহস্পতিবার মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটিতে ঢল নামে মুসল্লিদের।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ বৃহস্পতিবার উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। অথচ উদযাপনহীন রক্তাক্ত এক ঈদ পার করছেন ফিলিস্তিনিরা।