উত্তোলনে নেই ঝক্কি-ঝামেলা : খাগড়াছড়ির গুচ্ছগ্রামবাসীর মনে স্বস্তি!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) ঃ
বৈশ্বিক মহামারি‘করোনা’র প্রার্দুভাবে বিশ্ব আজ লন্ডভন্ড। ক্ষুর্ধাত মানুষের নিরব হাহাকার সর্বত্র। পার্বত্য খাগড়াছড়ির অ-উপজাতি গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দিশালায় আবদ্ধ বাঙ্গালীরা যুগের পর যুগ মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছে। তাদের নিত্য অভাব-অনটনের সুযোগে সরকার প্রদত্ত রেশনে ভাগ বসিয়েছে ব্যবসায়ীরা! বিশ হাজার থেকে লক্ষ টাকার বিনিময়ে রেশন কার্ড বন্ধক নেওয়ার অজুহাতে অনন্তকাল ধরে সরকারী রেশন খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা!‘করোনা’র ছোবলে লন্ডভন্ড জনজীবণে খাদ্য সংকটে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসক অ-উপজাতি গুচ্ছগ্রামবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে এপ্রিল-জুন মাসের আগাম রেশন বিতরণে সদয় হওয়ায়‘করোনা’র আর্শিবাদ লেগেছে গুচ্ছগ্রামবাসীর প্রাণে। দীর্ঘ দিন পর কোন প্রকার ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারীতে খাদ্যশষ্য উত্তোলন করছেন অ-উপজাতি গুচ্ছগ্রামবাসীরা। এ যেন গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দিশালায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈশ্বিক মহামারি ‘করোনা ভাইরাসে মানুষজন গৃহেবন্দি। কাজ-কর্ম নেই তো, আয়-রোজগার নেই। যদিও সরকার অতি নি¤œ, নি¤œ ও মধ্যবিত্তদের মাছে পর্যায়ক্রমে ত্রান-সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। তবুও প্রতিনিয়ত ক্ষুর্ধাত মানুষের হাহাকার বাড়ছে। পার্বত্য খাগড়াছড়ির জনপদেও এর ব্যতিক্রম নেই। ফলে স্থানীয় সাংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস অ-উপজাতি গুচ্ছগ্রামে জনদূর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলার ৮১টি গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত ২৬হাজারের অধিক রেশন কার্ডধারীকে এপ্রিল-জুন-২০২০মাসের খাদ্যশষ্য বিতরণে বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছেন। ফলে গুচ্ছগ্রামে প্রচলিত রেশন কার্ড ব্যবসায়ীদের কপালে বাজ পড়েছে! কেন না গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠার পর গুচ্ছগ্রাম নামক বন্দিশালায় দূর্গতদেওর অভাব-অনটনকে পুঁজি করে ধীরে ধীরে রেশন কার্ডগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয় ব্যবসায়ীরা! কার্ড প্রতি ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পর্যন্ত বন্ধক দেয় দরিদ্র মানুষগুলো। দীর্ঘ ৩ দশক পেরিয়ে গেলেও সেই বন্ধকী টাকা আজও পরিশোধ না হওয়ায় প্রতি মাসে রেশন অনায়াসে তুলে নেয় রেশন কার্ড ক্রেতারা(বন্ধক গ্রহীতা)! এই দীর্ঘ সময়ের পুরো রেশন বন্ধক গ্রহীতারা ভোগ করলেও আসল টাকার দাবী কেউই ছাড়েনি। ফলে রেশন কার্ডের অঘোষিত মালিক সেজে গেছেন ব্যবসায়ীরা! এভাবে গুচ্ছগ্রামবাসীদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন চলে আসলেও রেশন কার্ডটি ওই ব্যবসায়ীর কবল থেকে উদ্ধারে হস্তক্ষেপ করেনি কোন প্রশাসন। ফলে সরকার প্রদত্ত রেশন প্রকৃতপক্ষে ভোগ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
এভাবেই যুগের পর যুগ অ-উপজাতী গুচ্ছগ্রামবাসীর ওপর চলে আসা তান্ডবলীলায় বৈশ্বিক মহামারি‘করোনা’র আর্শিবাদ লেগেছে!
প্রকল্প চেয়ারম্যান নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগে দেরি হওয়ায় আপাদত সরকারী কর্মকর্তাদের নামের (ডি.ও) অনুকূলে ৩ মাসের রেশন অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া এবার রেশন বিতরণে প্রশাসন নজরদারী বাড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কারণ এবার সরাসরি প্রকৃত কার্ডধারী উপস্থিত থেকে রেশন গ্রহন করায় বাধ্যবাধকতার বেড়াজালে পড়ে ব্যবসায়ীর এখন নমনীয় হয়ে অধরি আগ্রহে অপেক্ষা করছে রেশন কার্ডধারী কেউ রেশন তুলে নিয়ে ব্যবসায়ীর হাতে দেয় কী না। সরকারী আইনে প্রয়োগে প্রশাসনের কড়াকড়িতে‘বনের বাঘ, হরিণের কাছে ধরাশায়ী’
খাগড়াছড়ি’র ৯ উপজেলার ৮১টি অ-উপজাতী গুচ্ছগ্রামের ২৬,২১৪.৫ কার্ডধারী পরিবারে এপ্রিল-জুন মাসের খাদ্যশষ্য প্রতি মাসে ৩৫.৯৫ কেজি চাউল ও ৪৯.১০কেজি গম বরাদ্দ সাপেক্ষে সরকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিতরণ শুুরু করেছে। আর বিতরণ কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, বৈশ্বিক মহামারি‘ করোনা ভাইরাস’ এর কারণে সরকারী বিধি-নিষেধে মানুষজন গৃহেবন্দি। ফলে অ-উপজাতি গুচ্ছগ্রামবাসীর অভাব-অনটনের কতা চিন্তা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র সরকার উর্ধ্বতন মহলে আলোচনা পূর্বক আগাম এপ্রিল-জুন মাসের রেশন বিতরণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এতে করে জনপদে স্বস্তি এসেছে। এখন মানুষজন খাদ্য সংকট অনুভব করবে না। এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ বলেন, অ-উপজাতি গুচ্চগ্রামে বসবাসরত রেশন কার্ডধারীদের মাঝে রেশন বিতরণে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন পাওয়ায় রেশনের ডি.ও ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। সরকরী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ চলছে। প্রকৃত কার্ডধারীরা জাতীয় পরিচয় পত্র দেখিয়ে নাম নিবন্ধন পূর্বক রেশন উত্তোলন করছেন। এতে করে জেলার ২৬ হাজার ২শত ১৪ পরিবারে খাদ্য সংকট দূর হলো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code