উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে হাতিয়ার দুগ্ধ খামারীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

হাতিয়া প্রতিনিধি :
লকডাউনে মিষ্টির দোকান বন্ধ থাকা, দধীতে করোনা সংক্রামন হওয়ার ভয় ও সকালে হাটবাজার বন্ধ থাকায় প্রতিদিনের উৎপাদিত দুধ নিয়ে বিপাকে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দুগ্ধ খামারীরা। এতে দৈনন্দিন খামারের ব্যায় নির্বাহ করে দিন শেষে বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে খামারীদের।
হাতিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের খামারী নুরুজ্জামান (৪৫) জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায় হাতিয়াতে ছোট বড় প্রায় ১৫ টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। যেখানে এক একজন খামারী দেশি বিদেশী গরু মহিষ পালন করে দুধ আহরন করে থাকে। বিদেশী গরুর মালিক খামারীরা গড়ে প্রতিদিন ১শত থেকে দেড়শ লিটার দুধ আহরন করে । যা স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রি করার পর অধিকাংশই বড় বড় মিষ্টির দোকানে বিক্রি করতে হয়। বর্তমানে করোনাভাইরাস রোধে প্রশাসন লকডাউন করে দেওয়ায় সকল মিষ্টির দোকান বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক কম মূল্যে স্থানীয় ভাবে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে। যার ফলে ঋনের কিস্তি, গো খাদ্য, শ্রমিকের মজুরি ও খামারের অন্যান্য খরচ মিঠিয়ে প্রতিদিনিই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে খামারীদের।
দুগ্ধখামারে কর্মরত শ্রমিক জসিম উদ্দিন (৩৫)জানান, দুধের বড় বাজার মিষ্টির দোকান গুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয়ভাবে বাড়ী বাড়ী গিয়ে অনেক কম মূল্যে দুধ বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের। এরপরেও গ্রামে একটি গুজব আছে যে দুধেও করোনা ছড়াই তাই কেউ কেউ স্বল্প মূল্যে দেওয়ার পর ও তা ক্রয় করছেনা। অন্যদিকে সূযোগ বুঝে প্রতিদিন সকালে মধ্যভিত্ত শ্রেনীর একটি গ্রুপ খামারে ভিড় করছে দুধ ক্রয় করার জন্য।
এদিকে চরকিং ধনুমিয়া গ্রামে কর্মরত শ্রমিক শাহজাহান (৩৬) জানান, দুধ উৎপাদন ও খরচে মিল না থাকায় মালিক পক্ষ প্রতিদিনের মজুরি দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে আমাদের পরিবার ব্যায় নির্বাহ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম জানান, লকডাউনের কারনে সকল ব্যবসায় সমস্যা হচ্ছে। তবে হাতিয়ার দুগ্ধ খামারীদের আর্থিক ভাবে জোগান দেওয়ার জন্য আমারা একট সিদ্বান্ত নিয়েছি। কিছু দিনের মধ্যে দুস্থ্য অসহায় পরিবারের মধ্যে যে শিশু খাদ্য বিতরন করবো তার জন্য স্থানীয় খামারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমান দুধ আমারা ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code