ঋণ পুনঃতফসিলের সময় বাড়ল

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code

ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনের করার মেয়াদ আরো তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। যেসব ঋণখেলাপি তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করতে চান, তারা এ সময়ের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।

Manual3 Ad Code

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব ঋণখেলাপি বিশেষ সুবিধা নিতে চান, আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে নির্দেশনা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১৬ মে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী পুনঃতফসিলের সুবিধা নিতে ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। এ হিসেবে আবেদন করার শেষ সময় ছিল চলতি মাসের ১৬ আগস্ট। কিন্তু নতুন জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আরো তিন সপ্তাহ সময় বাড়ানো হলো।

গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট এবং ৯ শতাংশ সরল সুদে ১০ বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে খেলপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এই সার্কুলার জারির পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠে।

Manual2 Ad Code

পরে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন এর ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। তবে গত ৮ জুলাই এই স্থিতাবস্থার ওপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২ মাসের স্থগিতাদেশ দেন। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ওই সার্কুলার অনুযায়ী, কোনো ঋণখেলাপি যদি মনে করেন, এককালীন ঋণ পরিশোধ করে খেলাপির তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবেন, সে সুবিধাও পাবেন তারা।

Manual2 Ad Code

এতে বলা হয়েছে, এককালীন এক্সিট সুবিধা ও পুনঃতফসিল সুবিধা কার্যকরের ৯০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ও গ্রাহকের মামলা স্থগিত করতে হবে। পরবর্তীতে গ্রাহক কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে সুবিধা বাতিল করে মামলা পুনরায় চালু হবে।

সার্কুলার জারির পর ঋণখেলাপিরা তাদের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে অবেদন করা শুরু করেন। বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে এ আবেদন বেশি পড়ছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, সবার আগে এ সুবিধা পেতে খেলাপিরা তদবিরও করছেন। কারণ, তাদের মনে ভয়, আবার যদি আদালতে এ সিদ্ধান্ত আটকে যায়। তবে এ ক্ষেত্রে বড় খেলাপিরা তেমন সাড়া দিচ্ছেন না। কারণ, তারা পুরো বিষয়টি আগে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে মাঝারি ও ক্ষুদ্র ঋণ খেলাপিরা তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার জন্য আবেদন করছেন বেশি।

Manual8 Ad Code

এদিকে, আদালতের স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ দ্রুত নয় সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করে। এই কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ১৬ মে জারিকৃত বিআরপিডির সার্কুলার নম্বর ৫ এর আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল এবং এককালীন এক্সিট-সংক্রান্ত কার্যক্রমের হালনাগাদ অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। পাশাপাশি কমিটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে।

নিয়ম অনুযায়ী, ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ঋণখেলাপিরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। ঋণের অবস্থা, পরিশোধের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করে এটি পুনঃতফসিলের যোগ্য কি না তা সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক পর্ষদ। পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য তা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপির সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ কমিটি গঠনের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, বরং এ কমিটিই ঋণখেলাপিদের ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন অনুমোদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো তা যাচাই-বাছাই করবে। এসব বিষয় চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করার যে সময় বাড়ানো হলো তার সুযোগ নিয়ে ঋণখেলাপিরা পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code