একজন রত্নগর্ভা মা

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: কুলসুম বেগমের জীবনের গল্পটা অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা। একজন নারী হয়ে সমাজ সচেতনতা ও সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি তিনি ছিলেন সচেতন। সাংসারিক কাজের পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে সুশিক্ষিত করেছেন। স্বীকৃতি মিলেছে রত্নগর্ভা মায়ের। কুলসুম বেগমের জন্ম ঢাকার দোহার উপজেলার দক্ষিণ শিমুলিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে। পরিবারের সিদ্ধান্তে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় তার। এরপর বন্ধ হয়ে যায় তার লেখাপড়া। শিক্ষা ছাড়া মুক্তি নাই-এ কথা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন তিনি। সেজন্য সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করেছেন।

Manual7 Ad Code

তার স্বামী দোহার উপজেলার সুতারপাড়া এলাকার আইয়ুব আলী চৌকদার। গৃহস্থ পরিবার। জমিজমা, ফসল এসব নিয়ে থাকতে হয় বারো মাস। কিশোরী কুলসুম বেগমকেও সব সামলাতে হয়। ঘরসংসারের পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার কথাও ভাবতেন তিনি। তার স্বামী সন্তানদের কৃষিকাজ করতে বলতেন আর কুলসুম ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে চাইতেন। এ নিয়েও সংসারে অশান্তি হতো।

এ প্রসঙ্গে কুলসুম বেগম বলেন, যে গ্রামে আমার বিয়ে হয় সেখানে কোনো মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুল ছিল না। ভাবতাম কীভাবে সন্তানদের মানুষ করব। একপর্যায়ে নিজের গহনা বিক্রি করে মালিকান্দা এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস শুরু করি। সন্তানদের ভর্তি করিয়ে দিই বাড়ির কাছের স্কুলে। বাড়িতে কৃষাণ কৃষাণী আর পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রতিদিন ১০ কেজি চালের ভাত রান্না করেছি। মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারি না, শুনেছি কারও ঘরে খাবার নেই খাবারের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। আবার টাকার জন্য লেখাপড়া করতে পারছেন না তাকেও সহযোগিতা করেছি। নিজের সন্তানদের মতো এলাকার শিশুদেরও দেখার চেষ্টা করেছি। ঘর গৃহস্থালির কাজ সামলিয়ে এলাকার শিশুদের কথাও ভেবেছি। বিনা পয়সায় বাড়িতে মক্তবে কুরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এলাকার শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য তাগিদ দিয়েছি। যাতে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয় কেউ।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code