

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে কিছুদিন আগে একজন নারীর একসঙ্গে চারজন বাচ্চা প্রসব করার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৈ চৈ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাচ্চাগুলোর মা সুস্থ থাকলেও বাচ্চাদেরকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। গত ৩ জুলাই সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে জন্ম নেয় ওই চার শিশু।
তাদের মা বর্তমানে সুস্থ থাকলেও গুরুতর অবস্থায় ওই চার শিশুকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সাত মাস গর্ভে থাকার পর শিশুগুলো ভূমিষ্ঠ হওয়া তাদের অবস্থা কিছুটা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।
তিনি জানান, নয় মাস বয়স পর্যন্ত তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখতে হবে। কারণ যেকোনো সময় তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
যমজ শিশু সম্পর্কে হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের গাইনি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. কিশোয়ার সুলতানা বলেন, যমজ শিশু গর্ভে ধারণ করার বিষয়টিকে চিকিৎসা শাস্ত্রে মাল্টিপল প্রেগনেন্সি বা একের অধিক শিশুকে গর্ভে ধারণ করা বলা হয়।
তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে ওই নারী চার সন্তানের জন্ম দিলেও সাধারণত এ ধরণের গর্ভাবস্থায় দুটি শিশু এক সাথে জন্মগ্রহণ করে। একে যমজ বা টুইন বলা হয়। তবে তিন থেকে চারটি শিশুও একসাথে জন্ম নিতে পারে। চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাজ্যের হিউম্যান রিপ্রোডাকশন নামে একটি সায়েন্টিফিক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে ১৬ লাখ যমজ শিশু জন্ম নেয়। যা গড়ে ৪২টি শিশুর মধ্যে একজন যমজ। ১৬৫টি দেশের ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে যমজ সন্তান প্রসবের তথ্য সংগ্রহ করে তা ১৯৮০-১৯৮৫ সালের তথ্যের সাথে তুলনা করা হয় ওই গবেষণায়।