

তাওহীদুল ইসলাম নূরী, কক্সবাজার থেকেঃ১৬ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় কক্সবাজারে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কক্সবাজারে করোনা রোগীর সংখ্যা। গতকাল ১৬ মে পর্যন্ত একমাসে যার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪ জনে।

আটটি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার জেলা। এরমধ্যে ২০১৭ সাল থেকে যুক্ত হয়েছে দশ লক্ষরেও বেশি রোহিঙ্গার বসতি।
এতদিন জেলার ০৮ উপজেলা ও ০৪ পৌরসভায় করোনা রোগি শনাক্ত হয়। কিন্তু একদিন আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও ছড়িয়েছে করোনা। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চার রোহিঙ্গা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত একমাসে কক্সবাজারে ১৭৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা গেছে। যারমধ্যে ৩৩ জন সুস্থ এবং ০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলার করোনা হটস্পট চকরিয়াঃ
পাওয়া তথ্যমতে, কক্সবাজার জেলার ১৭৪ জন করোনা রোগির মধ্যে চকরিয়া উপজেলাতেই এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি করোনা রোগি শনাক্ত করা গেছে। চকরিয়ার ১৮ ইউনিয়ন এবং ১ পৌরসভায় ৬০ জনের মাঝে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শেভরন চকরিয়া শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুরুল কবির বলেন,
চকরিয়া উপজেলা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার ১০ টা উপজেলার মোহনা। লকডাউনেও এই উপজেলায় সমস্ত মালবাহী ট্রাকগুলোতে অন্য জেলা ও বিদেশী লোকের আগমন বেশি ছিল। মোদ্দা কথা হচ্ছে, চকরিয়ার মানুষ স্বাস্থ্য বিধি না মানার কারণেই আজ এখানকার এই করুণ অবস্থা ।
জেলার অনান্য উপজেলার শনাক্ত করোনা রোগীরা যথাক্রমে কক্সবাজার সদরে ৪১ জন, পেকুয়ায় ২২ জন, উখিয়ায় ২২ জন, মহেশখালীতে ১২ জন, টেকনাফে ০৭ জন, রামুতে ০৪ জন, কুতুবদিয়ায় ০২ জন বলে জানা গেছে। এর বাহিরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ০৪ জন রয়েছেন।
কক্সবাজারের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জেলার সিনিয়র সাংবাদিক দৈনিক সকালের কক্সবাজার
ও কক্সবাজার নিউজ- সিবিএন এর চীফ রিপোর্টার শাহেদ মিজান বলেন, কক্সবাজারে শুরুর দিকে বহি:গমনকারীদের মধ্যেই সামীবদ্ধ ছিলো করোনাভাইরাস। ক্রমান্বয়ে তা স্থানীয়দের মাঝে সংক্রমণ হয়েছে। অবহেলা এবং অজ্ঞতার কারণে আক্রান্তরাও ছড়িয়ে দিয়েছে এই রোগটি। কক্সবাজারে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সবাই পরিবারের সদস্য। অন্যদিকে আক্রান্তের হার বেড়ে চললেও এখনো মানুষের মাঝে সচেতনতা আসেনি। যার দরুন, মানুষ এখনো প্রয়োজন ছাড়াই বাইরে ঘুরছে এবং সামাজিক দূরত্বও মানছে না। এসব কারনে কক্সবাজারে করোনা ভাইরাস দিন দিন বাড়ছে।
এদিকে জেলার এই পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে আগামীকাল ১৮ মে থেকে সকল ধরণের দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। একইসাথে গণপরিবহনও চলাচলে নিষেধারোপ হয়েছে। তবে, জরুরি নিত্যপণ্য এর আওয়তা মুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।