

সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী :
জনবল সংকটে করোনা রোগীর স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে। ক্রমাগত বেড়ে চলা শ্বাষকষ্টের রোগী এবং তীব্র জনবল সংকটে ভেঙ্গে পড়তে পারে আইসোলেশন ওয়ার্ডের চিকিৎসা ব্যবস্থা।
সরেজমিন পরিদর্শনে ঘুরে দেখা গেছে, করোনা রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রয় ১৮ লক্ষ জনগণের জন্য এই হাসপাতালের ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডই একমাত্র ভরসা। রোরবার (২৮ জুন) পর্যন্ত ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪১ জন করোনা পজেটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে অন্য ওয়ার্ডেও অনেক রোগী ভর্তি আছেন। অতিমাত্রায় রোগীর চাপ, রোগী ও স্বজনদের অসহযোগিতায় নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল খায়ের মিয়াজী।
তবে পূর্ব থেকে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন কর্ণার হিসেবে ফেনী ট্রমা সেন্টারে ৩০ বেড, সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ বেডসহ পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ বেড করে ২৫ বেডসহ মোট ১০৫ বেড প্রস্তুত রাখা হলেও জনবল সংকটে আজো কোন করোনা রোগী এসব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি।
অন্যদিকে রোগী ও স্বজনদের রয়েছে চিকিৎসা না পাওয়ার তীব্র অভিযোগ। অক্সিজেন সংকট, চিকিৎসা সেবায় নেই ডাক্তার নার্স। ভর্তিকৃত প্রায় প্রত্যেক রোগী শ্বাসকষ্টে ভূগছেন। রোগীর অভিভাবকরা বলেছেন, শ্বাসকষ্ট থাকার পরও তাৎক্ষণিক মিলছে না অক্সিজেন।
করোনা রোগীর চিকিৎসায় এক্সরে রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একমাত্র টেকনিশিয়ান ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে একজন রোগীর ফুসফুসের সংক্রমণের ধারণা পেতে সমস্যা প্রকট হচ্ছে। একইসাথে হাই ফ্লো অক্সিজেন সেবা প্রদানের জন্য প্রশিক্ষিত একটি আলাদা জনবল প্রয়োজন হয়। ফলে জনবল সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এতসব সমস্যার মধ্যেও রোগী যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে রোগি বাড়তে থাকলে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ঘটতে পারে ‘মানবিক বিপর্যয়’।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালে রোগীর তুলনায় নেই প্রয়োজনীয় ডাক্তার। হাসপাতালে ৫৫ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও আছেন ৫০ জন। শারীরিক জটিলতার কারণে করোনা রোগী চিকিৎসা হতে বিরত রয়েছেন ৮জন চিকিৎসক। তীব্র সংকট রয়েছে নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। মোট পদের বিপরীতে নার্সের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকেরও কম। ১৪৬টি মঞ্জুরীকৃত পদ থাকলেও সবমিলে নার্স রয়েছেন ৮২ জন। সারাদেশে নতুন ৫ হাজার নিয়োগকৃত নার্সের মধ্যে ফেনীতে ৬৫ জন পদায়নের কথা থাকলেও নতুন নার্স এসেছেন মাত্র ৫ জন। এছাড়া আরও ৩১জন নার্স ফেনী হাসপাতালে বদলী করা হলেও যোগ দিয়েছে ১৫ জন। এদের সবাই ৮২ জনের অন্তর্ভূক্ত।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৩ জন করে তিন শিফটে জরুরী বিভাগে রোগী দেখেন ডাক্তাররা। প্রতি টিমে নার্স রয়েছেন ৬ জন, ওয়ার্ড বয় ও আয়া ৬ জন এবং ইন্টার্ণ ৬ জন। কোনো টিমে কেউ যদি করোনা পজিটিভ হয় তবে পুরো টিম আইসোলেশনে চলে যেতে হবে। ফ্লু কর্ণারে ৪ জন ডাক্তার পর্যায়ক্রমে ৭ দিন করে নিয়মিত বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন। আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রতি শিফটে ১জন ডাক্তার, ২জন নার্স ও ৩জন ওয়ার্ডবয় ও আয়া কাজ করছে।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার মোমেনা বেগম এ প্রতিনিধিকে বলেন, ২৫০ বেডের হাসপাতালে ৩০০ নার্স থাকার কথা কিন্তু এখানে আছে মাত্র ৭৮ জন। তিনি আরো বলেন, উন্নত দেশে ৪ জন রোগীকে একজন নার্স সেবা দিয়ে থাকেন। অথচ এখানে একজন নার্সকে ১০০ জন রোগী দেখতে হয়।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, এই হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। এখানে ডাক্তার ও নার্সদের পদ খালি রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের এখানে আরো ডাক্তার নার্স নিয়োগ দিলে আমরা ভালোভাবে সেবা দিতে পারবো।