এতিমখানায় জাকাত দেওয়ার বিষয়ে ইসলামের বিধান

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: ইসলামে সাধারণ দানের খাতগুলো ব্যাপক ও বিস্তৃত রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে জাকাত প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে বিশেষ ৮টি খাতকে। এই খাতগুলোর বাইরে জাকাত দিলে তা সহি হবে না।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই জাকাত হচ্ছে ফকির ও মিসকিনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আজাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৬০)

Manual4 Ad Code

এ জন্য যেসব দাতব্য সংস্থা, এতিমখানা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শতভাগ আস্থা রাখা যায় যে তারা আমানতদার এবং জাকাতের অর্থ গ্রহণ করে উপরোক্ত খাতগুলোতেই ব্যয় করবে, শুধু তাদের হাতেই জাকাতের অর্থ প্রদান করা জায়েজ, অন্যথায় জায়েজ হবে না।

এ রকম প্রতিষ্ঠানে জাকাত আদায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে, তা হলো– আমরা জানি জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে জাকাতগ্রহীতাকে সরাসরি মালিক বানিয়ে দিতে হয় কিন্তু প্রতিষ্ঠানে জাকাত দিলে জাকাতগ্রহীতাকে মালিক বানানো হয় না। এ জন্য এখানে শর্ত হলো– জাকাত উসুলকারী প্রতিষ্ঠান জাকাত গ্রহণের সময় উপযুক্ত ব্যক্তিদের উকিল হিসেবে তা গ্রহণ করবে এবং যথোপযুক্ত ব্যক্তিকে তারা জাকাতের অর্থ দেবে, তাকে মালিক বানিয়ে দেবে। আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলোর এতিমখানা এই নিয়ম মেনেই পরিচালিত হয়।

Manual6 Ad Code

জাকাতের ৮টি খাতের ব্যাখ্যা
১. ফকির–যারা গরিব।

২. মিসকিন–যাদের আর্থিক অবস্থা গরিবের চেয়েও খারাপ।

৩. আমেল–জাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তি।

৪. মন জয় করার জন্য–ইসলামের বিরোধিতা বন্ধ করা বা ইসলামের সহায়তার জন্য কারও মন জয় করার প্রয়োজন হলে তাকে জাকাত দেওয়া যাবে। ইসলামের শুরুর দিকে এর প্রয়োজনীয়তা ছিল। বর্তমানে এই খাতের খুব একটা প্রয়োজন নেই। তবে নও-মুসলিমদের সমস্যা দূর করার জন্য জাকাত তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা যাবে।

৫. দাসমুক্তি–তথা দাসত্ব শৃঙ্খলে আবদ্ধ লোক ও ইসলামের জন্য বন্দিদের মুক্ত করাতে তাদের জন্য জাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে।

Manual5 Ad Code

৬. ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধ–ঋণভারে জর্জরিত লোকেরা মানসিকভাবে সর্বদাই ক্লিষ্ট থাকে। কখনও কখনও জীবন সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েন তারা। তাদের ঋণমুক্তির জন্য জাকাতের টাকা দেওয়া জায়েজ।

Manual7 Ad Code

৭. আল্লাহর পথে ব্যয়–কোরআনের ভাষায় এ খাতের নাম হলো ‘ফি সাবিলিল্লাহ’, যার অর্থ হচ্ছে আল্লাহর পথে। আল্লাহর পথে কথাটি খুব ব্যাপক। মুসলমানদের সব নেক কাজ আল্লাহর পথের কাজ।

৮. মুসাফির–মুসাফির বা প্রবাসী লোকের বাড়িতে যত ধন-সম্পত্তিই থাকুক না কেন, পথে বা প্রবাসে তিনি যদি অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়েন, তাহলে তাকে জাকাত তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য দেওয়া যাবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code