এবার রেকর্ড ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হতে পারে 

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ দেশের সর্বত্র করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়লেও এই সময়ে চা-বাগানগুলোতে শ্রমিকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করছেন। তাদের এই কষ্ট সার্থক হয়েছে। তাছাড়া এবার মৌসুমের শেষের দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেশি চা উৎপাদিত হয়ে ১০ কোটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে  মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০১৬ সালে দেশে চা-উৎপাদনের রেকর্ড ভেঙে ২০১৯ সালে ৯ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। তবে এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দেশে ১০ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়ে ডিসেম্বর নাগাদ আরেক রেকর্ড সৃষ্টি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Manual4 Ad Code

দেশের ১৬৭ টি চা-বাগানের মধ্যে বৃহত্তর সিলেটে ১৩৬ টি চা বাগান রয়েছে। এবার মৌসুমের শেষ দিকেও সিলেটের বাগানগুলোতে চলছে চা-চয়ন এর ধুম। নারী-পুরুষ চা শ্রমিকরা ‘পাতি’ তুলছেন মহাখুশিতে। এবার অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এখনো চা গাছে কুঁড়ি গজাচ্ছে। তাই বাগান সংশ্লিষ্টরা এবার বড় অর্জনের স্বপ্নে বিভোর। চায়ের উৎপাদন ভালো হলেও বাজার মূল্য প্রতি কেজি মাত্র ১৯০-১৮৬ টাকা। এতে বাগান মালিকদের পোষায়না-মন্তব্য করে বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশনের নর্থ সিলেট ভ্যালির চেয়ারম্যান নোমান হায়দার চৌধূরী  ইত্তেফাককে জানান, সিলেট অঞ্চলে তাদের ২২ টি বাগানেও উৎপাদন ভালো হয়েছে।

Manual3 Ad Code

এদিকে  চা বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি ২০২১ সালে দেশের ১৬৭টি চা বাগান থেকে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন কেজি। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চা উৎপাদন হয় ৩৮ দশমিক ৩১ মিলিয়ন কেজি। লক্ষ্যমাত্রার ৫০ ভাগের অনেক বেশী চা উৎপাদন হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০০ মিলিয়ন কেজি চা পাতা উৎপাদন হবে। যা হবে দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড।  অন্যান্য বছর এমন সময় কুয়াশার কারণে চা পাতা উৎপাদন অনেকটাই হ্রাস পায়। অথবা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ‘রেড ষ্পাইডার’ আক্রমণ করে। এবার বাগানগুলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেকটাই মুক্ত।

Manual5 Ad Code

sylhet office (16.11.2021) 02ছবি: আব্দুল বাতিন ফয়সল

সিলেটের হরিপুরস্থ খান বাগানের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবীর ইত্তেফাককে বলেন, ‘চা একটি সংবেদনশীল কৃষি পণ্য। সুষম আবহাওয়া, সঠিক পরিচর্যার উপর এই কৃষি পণ্যটি বেঁচে আছে। এবার আবহাওয়া বেশ ফেবার করেছে।’  তিনি বলেন, খান বাগানে চা-উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার কেজি। তা বেড়ে ৫ লাখ ৪০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। আগের বছর খান বাগানে ৪ লাখ ৬৭ হাজার কেজি উৎপাদন হয়। সূত্র মতে সিলেট, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ সারাদেশে ১৬৭টি চা বাগানে  চায়ের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে নিলামবাজারে চায়ের দাম কমে যাচ্ছে। এতে মালিক পক্ষ বাগান চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা বিশেষজ্ঞরা জানান, চা নিলাম কেন্দ্রে দেশের বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কম দামে চা ক্রয় করে খুচরা বাজারে তারা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। অন্যদিকে চোরাই পথে নিম্নমানের ভারতীয় চা-পাতা দেশীয় পাতার সাথে মিশ্রণ করে বাজারজাত করায় দেশের চা শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

sylhet office (16.11.2021) 03ছবি: আব্দুল বাতিন ফয়সল

বাংলাদেশ চা সংসদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলেন, গত বছর বৈরী আবহাওয়ার কারণে চায়ের উৎপাদন অনেকটা হ্রাস পেয়েছিল। তবে এবার  আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বাড়ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, বাগানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল নিশ্চিতকরণ, চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, রেশন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের ফলে এবার চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে, ‘১০০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হবে, বলেন  কর্মকর্তারা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code