

নিউজ ডেস্কঃ
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন (সার্স-কোভ-২) নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন। এর মধ্যেই মাস্ক পরার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রঙিন, ফ্যাশনেবল ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের মাস্ক নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তারা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের প্রধান ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসের প্রফেসর ট্রিস গ্রিনহালগ জানিয়েছেন, কাপড়ের মাস্ক ভালো হতে পারে, আবার ভয়াবহও হতে পারে। তবে, তা নির্ভর করছে মাস্কে কোন কাপড় ব্যবহার হয়েছে, তার ওপর। কয়েকটি উপকরণে মিশ্রণে তৈরি দুই কিংবা তিন লেয়ারের মাস্ক বেশি কার্যকর বলেও তিনি জানান। কিন্তু বেশিরভাগ কাপড়ের মাস্কই ফ্যাশন এক্সেসরিজ দিয়ে তৈরি। যা ওমিক্রন রোধে বিশেষ কার্যকর নয়।
বিশ্বব্যাপী ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন দেশ কঠোর বিধিনিষেধের নীতিমালা পুনরায় আরোপ করছে। গত গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হলেও এই মাসের শুরুতে দেশটিতে গণপরিবহন, দোকানপাট ও ঘরোয়া ভেন্যুতে মাস্ক পরা আবার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মহামারির পুরো সময় বিভিন্ন জায়গার কর্তৃপক্ষ মাস্ক পরা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা জারি করে। কোন মাস্ক পরা উচিত, কোন ধরনের উচিত নয়, এসব কিছু নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনার কথাও শোনা গেছে।
ইতোমধ্যে কানাডায় এক লেয়ারের কাপড়ের মাস্ক নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত ২৪ নভেম্বর বিশ্ববাসীকে প্রথম করোনায় রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রনের তথ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। অবশ্য এক গবেষণায় জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনটির ব্যাপারে বিশ্বকে জানানোর ৫ দিন আগে, নেদারল্যান্ডসে এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
কাপড়ের মাস্ক যারা তৈরি করছেন, তারা যতটা ফ্যাশন বা স্টাইলের দিকে নজর দিচ্ছেন, ততটা নজর সম্ভবত স্বাস্থ্যক্ষেত্রে দিচ্ছেন না। মাস্ক তৈরির যে সাধারণ নির্দেশিকা আছে, তা এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে মাস্ক তৈরি হচ্ছে, আপনি তা পরে বেরোচ্ছেনও বটে, কিন্তু নিরাপত্তার দিকটিতে যা ফাঁকি থাকার, তা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে সার্জিক্যাল মাস্ক বা এন-৯৫ মাস্ক প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো এই নির্দেশনা মেনে চলে বলেই এই ধরনের মাস্কের ব্যবহার অনেক বেশি নিরাপদ। এ বিষয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ কেয়ার সার্ভিসের অধ্যাপক ট্রিশ গ্রিনহালগ বলেন, কাপড়ের মাস্ক নিয়ে মূল বিষয় হলো এগুলো কোনো স্বাস্থ্য নীতিমালা অনুসরণ করে বানানো হয় না। তবে ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায় বলে পরিবেশ বা অর্থ নিয়ে চিন্তিত ভোক্তারা কাপড়ের মাস্কই বেশি ব্যবহার করে থাকেন। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী এন নাইন্টিফাইভ রেসপিরেটরি মাস্ক। বাতাসে ভাসমান যেকোনো জীবাণু থেকে এই মাস্কটি ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে সক্ষম। তবে নাক ও মুখ সঠিকভাবে না ঢাকলে যেকোনো ধরনের মাস্কই করোনার সুরক্ষায় কাজে আসবে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১০৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে সার্স-কোভ-২ বা করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন।
ওমিক্রনের বিরুদ্ধে অকার্যকর কেন কাপড়ের মাস্ক ও ওমিক্রন ঠেকাতে আমাদের করণীয় কী, তা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। অমরা বাজার থেকে ফ্যাশনেবল ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড়ের মাস্ক কিনে ব্যবহার করে থাকি। যা সচারচর তিন স্তরের গেঞ্জির কাপড়ের নয়। এসব মাস্ক করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে পারে না। এ কারণে অবশ্যই আমাদের তিন স্তরের গেঞ্জির কাপড়ের মাস্ক সঠিকভাবে পরতে হবে। অবশ্যই সবাইকে করোনার টিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
এদিকে, ওমিক্রনের ধাক্কায় যুক্তরাজ্যে একদিনে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে লাখের গণ্ডি।