

বিশেষ প্রতিবেন: সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সুদ মওকুফের ঘটনা বেশি ঘটছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন- এই তিন মাসে বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাদের বিতরণ করা ঋণে সুদ মওকুফ করেছে ২ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। যা আগের প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ছিল মাত্র ১৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বেশি সুদ মওকুফ করেছে, যা প্রায় ১২ গুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে সুদ মওকুফ পাওয়া গ্রাহকদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সুদ মওকুফের সিংহভাগ সুবিধা নিয়েছেন ব্যাংকের পরিচালকরা। কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখন অন্যান্য ব্যাংকের পরিচালকদের সঙ্গে মিলেমিশে যোগসাজশের মাধ্যমেও সুদ মওকুফ করছে।
অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, সবসময় বড় ঋণখেলাপিরা বেশি সুদ মওকুফ-সুবিধা পান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকরা এই সুবিধা থেকে অনেক দূরে থাকেন। এই প্রক্রিয়ার একটি বড় কুফল হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির পরিমাণ বাড়ে। ব্যাংকের পরিচালক, পরিবারের সদস্য বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুদ মওকুফে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের যে বাধ্যবাধকতা দেওয়া ছিল, গত ২৪ মে তা তুলে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এই শর্ত শিথিলের পরই ব্যাংক ও পরিচালকরা কৌশলে নিজেদের ঋণের সুদ মওকুফ করে নিচ্ছেন। যদিও এই শর্ত শিথিলের আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি সাপেক্ষে দেশের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী গ্রুপ একে অপরের ব্যাংক থেকে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার সুদ মওকুফ সুবিধা নেয়।