কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে কেন সরে আসছেন ট্রাম্প?

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নকে এজেন্ডার শীর্ষে রাখার পর হঠাৎ কেন তার এ নীতি বদল? কারণ জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এটি কারও জন্য ভালো খবর। কারও জন্য আবার খারাপ। কঠোর অভিবাসন নীতি শিথিল করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নকে এজেন্ডার শীর্ষে রাখার পর হঠাৎ কেন তার এ নীতি বদল? কারণ জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অর্থনীতি ও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে অবস্থান বদল করতে হচ্ছে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে। অভিবাসীদের ছাড়া ব্যবসা চলছে না অ্যামেরিকায়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে উল্লেখ করা হয়, অর্থনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে সংঘাত তৈরি হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে পিছিয়ে এসেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন তার কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা। বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারাও।

Manual2 Ad Code

হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে দুই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা হলো অ্যামেরিকার ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় বিতাড়ন অভিযান’ পরিচালনা করা এবং ব্যবসার জন্য ‘সোনালি যুগ’ নিয়ে আসা।

Manual2 Ad Code

মাসের পর মাস তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, দুটি প্রতিশ্রুতি একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, কিন্তু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিষ্কার হয়েছে যে, এ দুই প্রতিশ্রুতি প্রায়ই মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলেই ট্রাম্প একাধিক আলোচিত নীতি শিথিল করেছেন, স্থগিত করেছেন বা সরাসরি উল্টে দিয়েছেন।

ট্রাম্প অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম কমানো এবং কঠোর অভিবাসন দমনের সাফল্য নিয়ে অনেকবার গর্ব করেছেন, কিন্তু বাস্তবে কৃষি, আতিথেয়তা থেকে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তি—অ্যামেরিকার এমন অনেক শিল্পক্ষেত্র বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। এখানেই শুরু হচ্ছে দ্বন্দ্ব।

এ বিষয়ে ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসনবিষয়ক পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, ‘অন্যদের মতো ট্রাম্প হৃদয় থেকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বিশ্বাসী নন। তিনি রাজনৈতিকভাবে কঠোর ভাষা ব্যবহার করেন, কিন্তু ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার প্রতি তার সবসময় এক ধরনের নরম মনোভাব থাকে।’

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনার একটি ঘটেছে জর্জিয়ার একটি ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যাটারি কারখানায়। সেখানে প্রায় ৫০০ শ্রমিক—যাদের বেশির ভাগই দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক—আটক হন ইমিগ্রেশন এজেন্টদের হাতে।

ঘটনাটি সিউলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ঘটনাটিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অ্যামেরিকার সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা ট্রাম্পের অন্যতম অর্থনৈতিক লক্ষ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প বহিষ্কার সাময়িকভাবে স্থগিত করেন এবং ভাবেন শ্রমিকদের দেশে থেকে কাজ শেষ করার সুযোগ দেওয়া যায় কি না।

শিক্ষা ক্ষেত্রেও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে সেক্রেটারি অব স্টেইট মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন—চীন থেকে আসা ছাত্রদের ভিসা বাতিল করা হবে এবং নতুন আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

অথচ মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে ট্রাম্প নিজেই বক্তব্য দিয়ে বলেন, তিনি চান ৬ লাখ চীনা শিক্ষার্থী অ্যামেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসুক। তার যুক্তি, তারা না এলে কলেজ সিস্টেম অচল হয়ে যাবে খুব দ্রুত।

এ বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকরা।

জর্জিয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি মার্জোরি টেইলর গ্রিন এক্সে লিখেন, ‘দেশের শিক্ষার্থীদের সুযোগ চীন থেকে আসা ছয় লাখ শিক্ষার্থী দিয়ে পূরণ করা উচিত নয়।’

Manual6 Ad Code

কৃষি ও আতিথেয়তা খাতের ক্ষতির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন ট্রাম্প।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‘দেশের কৃষক আর হোটেল-লিজার ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ভালো শ্রমিকদের হারাচ্ছেন, যাদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।’ একই দিনে আইস নির্দেশনা দেয়, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে কর্মস্থলে অভিযান এড়িয়ে যাবে তারা, কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে আবার ঘোষণা আসে, সব ধরনের অভিযানই সম্ভব। এ দোদুল্যমান অবস্থাই নীতির ভেতরের বিভ্রান্তি প্রকাশ করে।

Manual4 Ad Code

অফিসে প্রবেশের আগেই ট্রাম্প নিজ ব্যবসায় সীমিতভাবে H-1B ভিসা ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করেছিলেন। প্রযুক্তি খাতের নেতারা এটি স্বাগত জানালেও ডানপন্থি কর্মীরা—যেমন লরা লুমার ও স্টিফেন ব্যানন—বলেছিলেন, এ কর্মসূচির কারণে অ্যামেরিকান কর্মীদের বেতন কমে যায়।

একসময় ট্রাম্প বলেছিলেন, অ্যামেরিকান কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড দেওয়া উচিত। পরে তার মুখপাত্র দ্রুত সেই বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং বলেন, কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালু করা হবে। বর্তমানে তার প্রশাসন অনেক ছাত্রের ভিসা বাতিল করেছে এবং ফিলিস্তিনপন্থি অ্যাকটিভিস্ট ও গবেষকদের গ্রিন কার্ড প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিয়েছে।

সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের প্রধান মার্ক ক্রিকোরিয়ান বলেন, ব্যবসার স্বার্থ সবসময় রিপাবলিকান প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছে। তার মতে, এবার ব্যবসার চাপ সত্ত্বেও ট্রাম্পের বিতাড়ন অভিযান থেমে যাবে না। অন্যদিকে সাবেক ডেপুটি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি কেন কুচিনেলি বলেন, কঠোর অভিবাসন নীতি আসলে দরিদ্র অ্যামেরিকানদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করে। তিনি স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ব্যবসায়ী। কেউ যদি বলেন, অভিবাসীদের ছাড়া তিনি ব্যবসা চালাতে পারছেন না, তাহলে তিনি গুরুত্ব দেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code