কথা রাখলেন ডিসি, কথা রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন দরিদ্র ছেলেটি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, ইউএসঃ কথা দিয়েছিলেন অদম্য মেধাবী কবির হোসেনকে একটি ল্যাপটপের ব্যবস্থা করে দেবেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

Manual3 Ad Code

বালু পাথর ও অন্যের জমিতে কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানো কবির হোসেনেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক। সোমবার (০১ জুন) তার পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার জন্য একটি ল্যাপটপ উপহার দিলেন ডিসি।

জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ এমরান হোসেনের সহযোগিতায় জেলা পরিষদের অর্থায়নে ল্যাপটপটি কেনা হয় শিক্ষার্থী কবির হোসেনের জন্য। দারিদ্র্য জয় করা কবির হোসেনকে গত বছর সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেন ডিসি মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

ওই সময় ডিসির কাছে পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার জন্য একটি কম্পিউটার চান কবির হোসেন। তখন ডিসি কথা দিয়েছিলেন একটি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করে দেবেন। সোমবার নিজের দেয়া কথা রাখলেন ডিসি। জেলা পরিষদের মাধ্যমে কবিরকে ল্যাপটপ দেন তিনি।

কবির হোসেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের পৈন্দা গ্রামের কৃষক শুকুর আলীর ছেলে। শত কষ্টের মাঝেও পড়াশোনা চালিয়ে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কবির। মেধা তালিকায় ৯০তম স্থান অধিকার করেছিলেন তিনি।

স্কুলে পড়াকালীন কবির হোসেন বালু, পাথর উত্তোলন ও অন্যের জমিতে কাজ করে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে ভর্তির পর টিউশনি করে পড়াশোনা চালান তিনি। কবির হোসেনের বাবা গরিব কৃষক। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে কবির হোসেন চতুর্থ।

Manual1 Ad Code

ল্যাপটপ পাওয়ায় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কবির হোসেন বলেন, ডিসি আমাকে কথা দিয়েছিলেন একটি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করে দেবেন। স্যারের ফোন পেয়ে আজ অফিসে যাই। যখন আমার হাতে ল্যাপটপ তুলে দিলেন তখন ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। অবাক হয়েছি। কিভাবে আমি স্যারকে ধন্যবাদ দেব। স্যার আমাকে বলেছেন, পড়াশোনা শেষ করে একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের সেবা করবে। আমিও স্যারের কথা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমি স্যারের কাছে আজীবন ঋণী।

Manual7 Ad Code

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, কবির হোসেন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে। সে আমাকে বলেছিল ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তার একটি কম্পিউটার প্রয়োজন। আমি কথা দিয়েছিলাম ব্যবস্থা করে দেব। সেটাই আজ পূরণ করলাম। যার জন্য আমি জেলা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। বড় হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কবির হোসেন কাজ করবে; এটাই প্রত্যাশা।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code