

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
বিশ্বজুড়ে নতুন আতঙ্ক করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভারতগামী যাত্রী কমে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে। একইসঙ্গে ভারত থেকে বাংলাদেশে ভ্রমণের হারও কমেছে।
করোনা ভাইরাসে দেশে তিন জন আক্রান্ত হওয়ার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থল বন্দরে যাত্রী পারাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। অধিকতর যাচাই বাছাই করে যাত্রীদের পারাপারের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেক যাত্রীকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্ক না পরায় সোমবার(৯ মার্চ)সকালে কিছু সময়ের জন্য যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয় ভারত।
এরপর বাংলাদেশও যাত্রী প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। পরে মাস্ক পরিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হয়। ভাইরাস পরীক্ষায় বন্দরে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
লিটন সাহা নামে এক যাত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে চারপাশে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্ক থাকলেও অতীব প্রয়োজনের কারণে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে।
অপর যাত্রী গীতা রাণী সাহা জানান, ভাইরাস নিয়ে তারা আতঙ্কিত। বন্দরে ভাইরাস শনাক্তে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই।দ্রুত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী জানান, যেহেতু বাংলাদেশে তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাই নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক ছাড়া কাউকে ভারতে যেতে দেয়া হচ্ছে না।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশি যাত্রীদের মাস্ক ছাড়া তাদের দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা। অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীরা অনেক সচেতন।
এদিকে, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাস রোধে নানাবিধ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে ।২৬ মার্চ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ মেরামতের বিভিন্ন দেশ থেকে ৭০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে আসার কথা
রয়েছে। সেই বিদেশি বিশেষজ্ঞ দলকে না আনার পরামর্শ দিয়ে চিঠি দিয়েছে সিভিল সার্জন অফিস। এছাড়া কারোনা ভাইরাস আতঙ্কে জেলার কসবা সীমান্ত হাট দুই মাস বন্ধ রাখার প্রস্তাব আনা হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহ আলম এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলার বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেলে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।