কাছের মানুষ হারানো শোকসন্তপ্ত ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দেবেন যেভাবে

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ১ দিন আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রিয়জন হারানোর কষ্টের কোনো সহজ সমাধান নেই। শোকাহত বন্ধু বা স্বজনকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন, অনেক সময় সেটিও বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। তার কষ্ট দূর করে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে পাশে থাকা, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় ছোট ছোট কাজে সহযোগিতা শোকের সময়টিকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে। একটি চিঠি পাঠানো, রান্না করা খাবার নিয়ে যাওয়া কিংবা নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও শোকাহত মানুষের কাছে অনেক অর্থবহ হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রত্যেক মানুষের শোকের ধরন আলাদা। তাই তাকে নিজের মতো করে শোক কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে।

মৃত ব্যক্তির কথা বলতে ভয় পাবেন না

Manual5 Ad Code

প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তার নাম বা স্মৃতি নিয়ে কথা বলতে অনেকে দ্বিধায় থাকেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তির নাম উচ্চারণ করলে শোকাহত মানুষ আরও কষ্ট পাবেন-এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং প্রিয় মানুষটির কথা বলা, তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে করা কিংবা তাকে কতটা মনে পড়ছে তা বলা শোকাহত ব্যক্তির জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। শুধু প্রচলিতভাবে আপনার ক্ষতির জন্য দুঃখিত বলার চেয়ে, তাকে আমিও খুব মনে করব-এ ধরনের আন্তরিক কথা অনেক বেশি অর্থবহ হতে পারে।

Manual7 Ad Code

‘কেমন আছেন?’ না বলে জিজ্ঞেস করুন অনুভূতির কথা

Manual3 Ad Code

শোকের মধ্যে থাকা কাউকে স্বাভাবিকভাবে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞেস করলে প্রশ্নটির উত্তর অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে যায়। কারণ প্রিয়জন হারানোর পর যে তিনি ভালো নেই, সেটি অনেকটাই স্পষ্ট। এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে, ‘আজ কেমন অনুভব করছেন?’ এতে তার বর্তমান অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় এবং তিনি চাইলে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারেন।

মিথ্যা আশ্বাস নয়, দিন ভরসা

শোক কাটিয়ে উঠতে সময় লাগে। তাই ‘সব ঠিক হয়ে যাবে’ ধরনের দ্রুত আশ্বাস না দিয়ে তাকে বোঝানো ভালো যে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় নিয়ে শোক করার অধিকার তার আছে। যেমন বলা যেতে পারে, ‘তোমার যতদিন সময় লাগে, ততদিন শোক করো। তুমি শক্ত মানুষ, ধীরে ধীরে এই সময়টা পার হয়ে উঠতে পারবে।’ এতে একদিকে তার কষ্টকে স্বীকার করা হয়, অন্যদিকে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ভালো হওয়ার ব্যাপারে আশ্বাসও দেওয়া হয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরও খোঁজ নিন

প্রিয়জনের মৃত্যুর পর প্রথম দিকে অনেকেই পাশে থাকেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর অনেকের যোগাযোগ কমে যায়। এই সময়টিই শোকাহত ব্যক্তির জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রথম কয়েক সপ্তাহের পরও নিয়মিত ফোন করা, দেখা করা কিংবা শুধু খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শোকাহত মানুষের পক্ষে নিজের প্রয়োজনের কথা বলে অন্যের কাছে সাহায্য চাওয়া কঠিন হয়। তাই তাদের কাছ থেকেই যোগাযোগের অপেক্ষায় না থেকে আপনিই উদ্যোগ নিতে পারেন।

পাশে থাকাটাই সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা

Manual2 Ad Code

শোকের কষ্ট অন্য কেউ দূর করে দিতে পারেন না। তবে একজন মানুষকে একা সেই কষ্ট বহন করতে না দেওয়ার চেষ্টা করা যায়। মৃত ব্যক্তির কথা বলা, নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য করা, খাবারের ব্যবস্থা করা কিংবা শুধু নীরবে পাশে বসে শোনা-এসব ছোট উদ্যোগই শোকাহত মানুষের কাছে বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো, তার শোককে সম্মান করা এবং তাকে নিজের মতো করে সময় নিয়ে এই কঠিন সময় পার করার সুযোগ দেওয়া।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code