কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টারে সোয়া ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আয়

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

 

হায়দার হোসেন, গোপালগঞ্জ :

Manual8 Ad Code

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালনায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাত্র ৫ বছরে সোয়া ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে।
কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলার কাশিয়ানি উপজেলার রাতৈল এলাকায় ১৬ দশমিক ৬২ একর জায়গা সরকারি জায়গায় ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টার। এখানে ২’শ প্রজাতির দেশী-বিদেশী ফলের, ফুলের চারা উৎপাদন ও কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

এছাড়া বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরিতেও কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। এপর্যন্ত ২ হাজার ৭০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এবং ৫৫ টি ফলের বাগান প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষককে প্রশিক্ষণ, চারা বিতরন, সার ও কীটনাশক সরবরাহ এবং সার্বিক তদারকি করা হচ্ছে। এসব ফল বাগানের মধ্যে রয়েছে নারিকেল, আম, পেয়ারা, কাশ্মিরি কুল, বলসুন্দরী কুল এবং সীডলেস কুল, সীডলেস লেবু ও ড্রাগন ফল ।

Manual3 Ad Code

সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে নতুন প্রতিষ্ঠিত এ হটিকালচার সেন্টারে মাতৃগাছ প্রতিষ্ঠা করা। ইতোমধ্যে দেশী বিদেশী ১ হাজারের বেশী মাতৃগাছ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখান থেকে প্রতিনিয়ত বীজ থেকে চারাম ও কলম থেকে নতুন গাছ সৃৃষ্টি করা হচ্ছে এবং ফলের চারা উৎপাদন করে এলাকায় বানিজ্যিকসহ পারিবারিক ভাবে ফলের বাগান তৈরীতে উৎসাহ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টারের উপসহকারি উদ্যান অফিসার রফিকুল ইসলাম প্রধান বলেন এসব ফলের বাগানের মধ্যে মুল্যবান ওষুধিগাছসহ অনেক দুপ্রাপ্য ও জনপ্রিয় ফলের মাতৃগাছ রয়েছে। জনপ্রিয় মুল্যবান এবং উন্নত পুষ্ঠি সমৃদ্ধ বিদেশী গাছের মধ্যে মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো জিনসিং, পার্সিমন, জয়তুন, এপ্রিকট, এগফ্রুট, ক্যাপেল, জাপাটিকাবা, আইসক্রীমবিন, পানপরাগ, রৌশনিয়া, ম্যাঙ্গোষ্টিন, বীজবিহীন বারোমাসি জাম, কাজু বাদাম, মিশরিয় মিষ্টি ডুমুর, এ্যাভোকেডো, রাম্বুটান, ডুরিয়ান, টক আতা কলম, আঙ্গুর (সীডলেস ও কালো) থাই শরিফা, টিস্যুকালচার আপেল, সীডলেস বাতাবি লেবু, পুলাসান, মিরাক্কেল ফল, ব্লাকবেরি, কিউই, দারজিলিং কমলা, চায়না কমলা, আঠা ও ভোতাবিহীন কাঠাল, পিংকালার, ভেরিকেট ও বারি মাল্টা, বিশ্বব্যাপি সমাদৃত অতি মুল্যবান আম, তাইওয়ান গ্রীণ, থাই কাচামিঠা, ভিয়েতনামি বারোমাসি, ডকমাই, আমেরিকান কেন্ট, থাই জাম্বুরা, চাকাপাত, মেহেদী, পলমল, ব্রুনাই কিং, লেডিজোন, এগ অব সান, কিউজাই, সীডলেস, কাটিমন, চৌষা, রঙ্গিন তোতাপুরি, সীডলেস পেয়ারা, থাই পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে আতা, গোলাপজাম, কামরাঙ্গা আমড়াসহ নানা প্রজাতির ফলের চারা ও কলম উৎপাদন করা হলেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে ভিয়েতনামী খাটো জাতের নারিকেল ও কাঁঠালের কলম চারা। এছাড়া বানিজ্যিক ভাবে এই হটিকালচার সেন্টারের আশেপাশে এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ হচ্ছে কাশ্মিরি কুল, বলসুন্দরী কুল এবং সীডলেস কুল। বাড়ীর আঙ্গিনায় ও এসব ফলের চাষ করে তা নিজেদের চাহিদা পুরণ শেষে বাজারে বিক্রি করে সচ্ছলা আসছে অনেক পরিবারে।
ইতোমধ্যে কৃষক পর্যায়ে ৩২ হাজার ভিয়েতনামী নারিকেল জাত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। কয়েকটিতে ফল এসেছে বাদবাকীতে গাছে আগামী দুই-আড়াই বছরের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করবে। ড্রাগন ফলের চাহিদা থাকায় এ জাত সম্প্রসারণে কাজ করছে কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টার। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার ড্রাগন ফলের জাত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আমাদের থেকে চারা সংগ্রহ করে ৯ জন কৃষক এলাকা ছাড়াও ঢাকায় ড্রাগন ফল সরবরাহ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে।
ব্রাজিলিয়ান থেকে আনা জাবটিকাবা ফলের চারা উৎপাদনের জন্য বেশকয়েকটি টি মাতৃগাছ রয়েছে এখানে। এখান থেকে দেশের সকল হর্টিকালচার সেন্টারে এ জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এখানকার আমের জনপ্রিয় জাতের নতুন দুটি জাত গৌরমতি ও ব্যানানা ম্যাংগো সর্বশেষ ও জনপ্রিয় ভেরাইটী হিসেবে উৎপাদনের কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। এ জাতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সাধারন জাতের আম যখন বাজারে থাকবেনা তখন অফ সিজনে এ আম পাওয়া যাবে।
লিচুর জাতের মধ্যে চায়না ২, ৩ মোম্বাই রয়েছে। এছাড়াও বেদেনা ও মোজাফ্ফরপুরী ও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ববিদ রাকিবুল হাসান জানান বছরব্যাপী ফল এই সেন্টারে উদ্যান ফসল সম্প্রসারণ, মাতৃবাগান সৃজন, জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ, মান সম্মত বীজ, চারা ও কলম উৎপাদন এবং বিক্রয় করা হয়। ছাড়া দেশ বিদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত ফল, ফুল, কন্দাল ও সবজীর জাতগুলো সংগ্রহ এবং এ জাতগুলোর এদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা যাচাইসহ নানাবিধ কাজ করে থাকে হর্টিকালচার সেন্টারগুলো। ফলসহ উদ্যান ফসলের ওপর প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে হর্টিকালচারগুলোর মাধ্যমে।
গুণগতমান ও জবাবদিহিতা থাকায় হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এসে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। সেন্টার থেকে নতুন মানসম্মত চারা ও কলম কম দামে কিনে চাষি এবং উদ্যোক্তারা বাগান সৃষ্টিতে উৎসাহি হয়ে থাকে। কাছাকাছি হর্টিকালচার থাকলে এ কাজ আরও সহজ হয়ে ওঠে। দেশের চাহিদামাফিক ফল উৎপাদনের জন্য হাতের কাছে হটিকালচার সেন্টার থাকায় এর গ্রহণযোগ্যতা, আস্থা ও জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে।

Manual2 Ad Code

কাশিয়ানি হর্টিকালচার সেন্টারের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলায় যে কয়টি প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চালু হয়, তার মধ্যে কাশয়ানি হটিকালচার সেন্টার অন্যতম আরও বলেন, ২০১৪ সালের অক্টোবরে হর্টিকালচার এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৫ বছরে চারা ও কলম চারা বিক্রি করে ৩০ লাখ ২৫ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করা হয়েছে। এখানে সবচেয়ে বেশী আমের চারার চাহিদা। এজন্য সোয়ালাখ আমের চারা কলম উৎপাদনের টার্গেট নেয়া হয়েছে।
ফুল ও ফলের চারা সরকার কতৃক নির্ধারিত হয়ে থাকে। এটির সর্বনিম্ম দাম ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা, ১৫ টাকা, ২০ টাকা, ৪০ টাকা, ৬০ টাকা, এবং সর্বচ্চ ৮০ টাকা নির্ধারন করা আছে। চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ ১০ হাজার ৫ শ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তিনি আরও
জানান আমাদের জনবল রয়েছে অত্যান্ত কম। আমাদের আবাদি জমির পরিমান ও অবস্থান অনুযায়ি সরকার কর্তৃক মঞ্জুরিকৃত জনবল সংখ্যা ৩৩ জন এর মধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারি পর্যায়ের কিছু পদ শুণ্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশী পদ শুন্য রয়েছে ফার্মলেবার পদে। সেখানে ১৬ টি মঞ্জুরি পদের বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৪জন। এজন্য বিভিন্ন কাজের বিশেষ মৌশুমে বাইরে থেকে দিনমজুর এনে কাজ করতে হয়। নিয়মিত ফার্মলেবার না থাকায় অনেক সময় মাতৃগাছ এবং চারা গাছের নিয়মিত যতœ নেয়ায় ঘাটতি পড়ে। যা উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে আমরা ও প্রতিনিয়ত অবগত করিয়ে যাচ্ছি।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code