কিছু কথা বলতে হচ্ছে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual6 Ad Code

কাজী হালিমা আফরীন : অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমি এই পোস্টটা দিতে বাধ্য হলাম। জানি অনেকেই আমাকে ধুয়ে দিবেন। নানা রকম যুক্তি দেখিয়ে কানাডিয়ানদের দোষারোপ করবেন। তারপরেও আমি কিছু বলতে চাই।

Manual7 Ad Code

এই যে দেখুন, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা চলছে। আপনারা যদি জরিপ করেন, তাহলে দেখবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উন্মাদনায়, উত্তেজনায় আছে কোন দেশটা? Ranking নম্বর ওয়ানে থাকতে পারে বাংলাদেশ। অথচ বাংলাদেশ অন্য কোন ভালো কিছুতে পৃথিবীর নম্বর ওয়ান হতে পারে না।

আপনারাই বলুন এই খেলা চলাকালীন সময়ে ফেসবুকে কি ঢোকা যাচ্ছে? দু-দলের উপর ভিত্তি করে যেভাবে পাল্টাপাল্টি ভিডিও বা স্ট্যাটাস আপলোড হচ্ছে সেটা সত্যিই পরিতাপের বিষয়। একটা ফানি ভিডিওতে দেখলাম জেতা দল হারা দলের সদস্যকে বেঁধে ঝুলাতে ঝুলাতে নিয়ে গিয়ে বালুর গর্তের মধ্যে তাকে চাপা দিচ্ছে। চিন্তা করেন ভিডিওর সারমর্ম যদি এটাই হয় তাহলে আমরা দেশের নিউ জেনারেশনদের কী শিক্ষা দিচ্ছি?শিশুরা শিখছে যে জীবনেও হারা যাবে না। তাহলে অন্য পক্ষ মেরে ফেলবে নতুবা বালুর নিচে চাপা দিয়ে দেবে। এসব শিশুরা ভবিষ্যতে আর খেলতেও চাবে না ভয়ে যদি সে জিততে না পারে। কী ভয়াবহ ব্যাপার!

Manual7 Ad Code

দেশের সব নামিদামি মিডিয়া বা পত্রিকাগুলো একনাগাড়ে ছাপাচ্ছে দেশের কোনো নায়িকা কোন দল সাপোর্ট করেন, তাদের দল জিতেছে কিনা, এখন তারা আর কোনো খেলা দেখবেন কিনা। বুড়ো থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার গায়ে জার্সি। সেসব পরে পোস্ট দিতেই হবে।

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হল কানাডা। কানাডিয়ানরাও তো কোনো একটা খেলা নিয়ে এভাবে মাতামাতি করতে পারত। কিন্তু না। কানাডিয়ানরা কিন্তু খেলাধুলায় অনেক ভালো। অলিম্পিকের প্রায় সব খেলাতে তারা চাম্পিয়ন হয়। গোল্ড মেডেল পায়। কিন্তু সেই পর্যন্তই শেষ। সেসবের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে কোনো একজন কানাডিয়ানদের ফানি ভিডিও বানিয়ে আপলোড দিতে দেখা যায় না, বা অন্য কিছু করতে দেখা যায় না।

Manual7 Ad Code

সবকিছুর একটা লিমিটেশন থাকা উচিত। খেলা ভালো লাগে দেখতে পারেন। কিন্তু তার জেতা-হারার পর ভিত্তি করে সংঘর্ষ পর্যন্ত ঘটাতে হবে? একটা পত্রিকার নিউজে দেখলাম দেশের কোথাও একটা বিশাল সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে ঘরবাড়ি ভাঙচুরও হয়েছে। অথচ এসব কোনো কিছুই আপনাদের আক্ষরিক অর্থে লাভবান হওয়ার কিছু নয়। চিন্তা-চেতনায়, কাজে-কর্মে জাতি কতটা পিছিয়ে আছে দেখুন! ভাবার বিষয়।

আমার ইনবক্স চেক করার এত সময় পাই না। সেখানে কতটা মেসেজ জমা হয়েছে তা অনুমান করতে পারি। আপনারা সবাই কানাডায় আসতে চান। অনেক ভালো কথা। আমিও চাই আপনারা সবাই কানাডায় আসুন। কিন্তু সব দেশের একটা নিয়মকানুন আছে, criteria আছে। আসতে চাইলে আসা যায় না। তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। ইংরেজিতে দক্ষ হতে হয়। ielts এ একটা score থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় কথা সবকিছুর আগে আপনার একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে tunnel এর শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে আপনার মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে। কিন্তু আপনি কি সেসব করছেন? আপনি তো পৃথিবীর কোন দেশ ফুটবল খেলায় হেরেছে বা জিতেছে তা নিয়ে নিজের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছেন। এসব না করে আপনারা যদি ইংরেজি প্রাকটিস করে ielts দিতেন, নিজেকে যোগ্য করতেন তাহলে কানাডায় আসা আপনার জন্য কোনো ব্যাপার না।

কানাডার সঙ্গে ইন্ডিয়া, হংকংয়ের মত দেশগুলোর চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির ফলে সেসব দেশ থেকে student রা বা ইমিগ্রান্টরা অনেক সহজে কানাডায় আসতে পারে। বাংলাদেশের চুক্তি নেই কেনো? কেনো করতে পারেনি কানাডার সঙ্গে একটা সম্পর্ক?

কানাডার indo Pacific Strategy তে বিশাল একটা পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে টিভি নিউজে দেখলাম
Indo Pacific Strategy নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সেখানে বলা হয়েছে কানাডা একটা বড় অংকের টাকা ইনভেস্ট করবে পাকিস্তান -ইন্ডিয়া- ফিলিপাইন ও আরো কয়েকটা দেশে। এসব দেশে কানাডার অর্থায়নে তৈরি করা হবে বাণিজ্যিক শিল্প কারখানা। এবং কানাডা তাদের কাছ থেকে শিল্প এনে economic এর জন্য কাজে লাগাবে। যে দেশগুলোতে কানাডা শিল্প কারখানায় ইনভেস্ট করতে চায় সেখানে বাংলাদেশের নামটা শোনা যায়নি। যদি থাকত তাহলে কত ভালো হত চিন্তা করেন। আমাদের দেশের অনেক মানুষ চলে আসতে পারত অনেকটা সহজে। দেশের economic কতটা উন্নত হতে পারত।

Manual4 Ad Code

কানাডায় সবচেয়ে বেশি ইমিগ্রান্ট হয়ে আসে ইন্ডিয়া থেকে। আপনারা বললে বিশ্বাস করবেন না তারা কতটা talent. কানাডাতে কত ভালো করছে তারা।

আসুন আমরা সবাই নিজের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে এবার একটু নজর দিই।

কাজী হালিমা আফরীন
টরন্টো, কানাডা থেকে
ডিসেম্বর ১০,২০২২

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code