কিডনিতে পাথর

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি। রেচন মানব দেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থগুলো বাইরে নিষ্কাশিত হয়। বিপাক ক্রিয়ায় আমাদের দেহে যে সকল বর্জ্য বা বিষাক্ত পদার্থ তৈরী হয় তা হলো-ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, লবণ, ক্রিয়েটিনিন, বিলিরুবিন, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি। তৈরী হওয়ার পর এগুলোর রক্তের সাথে মিশে থাকে। এসব বর্জ্যের অতিরিক্ত পরিমাণ শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত। কোন কারণে এ বিষাক্ত পদার্থগুলো শরীরে জমতে থাকলে নানা ধরনের অসুখ দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। এ সব অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিডনি। মানব দেহের উদর গহ্বরের পেছন অংশে মেরুদন্ডের দুই পাশে বক্ষপিঞ্জরের নিচে ও পৃষ্ঠে প্রাচীর সংলগ্ন হয়ে দুইটি বিডনি বা বৃক্ক যুক্ত থাকে। সাধারণ বাম কিডনিটি ডান কিডনির চেয়ে সামান্য উপরে থাকে। প্রতিটি কিডনি নিরেট চাপা দেখতে অনেকটা শিমেরবীজের মতো এবং লালচে রংয়ের। পুরুষের বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং স্ত্রী লোকের কিডনির ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম। প্রতিটি কিডনির দৈর্ঘ্য ৪ ইঞ্চি থেকে ৫ ইঞ্চি প্রায়। একজন সুস্থ বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন প্রায় ১৫০০ মিলি লিটার মুত্ত ত্যাগ করে। তবে কাজের ধরনের উপর পানি পানের যেমন প্রয়োজন তেমনই মুত্ত ত্যাগের পরিমান কম বেশি হতে পারে। যকৃত বা কলিজার অবস্থানের কারণে ডান কিডনি বাম কিডনি অপেক্ষা সামান্য নিচে থাকে।

*কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণ: নানা কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে। তবে সাধারণত অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ, পানি কম পান করা, অতিরিক্ত আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করার কারণে কিডনিতে পাথর হতে পারে। তাছাড়া কিছু বিপাকজনিত সমস্যায়ও পাথর হতে পারে। যেমন হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজম, গেঁটেবাত বা হাইপার ইউরেসেমিয়া ইত্যাদি। হাইপার প্যারাথাইরয়েডিজেম্রে রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমান বেড়ে যায় যা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। রক্তের অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডিনি দিয়ে বের হওয়ার সময় ক্যালসিয়াম অধ:ক্ষেপিত হয়ে পাথরে রুপান্তরিত হয়। ক্যালসিয়াম অক্সেলেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট পাথর সাধারণত এই পদ্ধতিতে তৈরী হয়। মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণজনিত কারণে ম্যাগনেসিয়াম অ্যামোনিয়াম ফসফেট পাথর হয়। যাদের গেঁটে বাত বা রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেশি তাদের ইউরিক এসিড পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । তাছাড়া যারা বেশি পরিমাণে প্রাণিজ প্রোটিন জাতীয় খাবার, সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, পরিশোধিত চিনি গ্রহন করেন তাদের পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

*পাথরের প্রকাভেদ: রাসায়নিক গঠন অনুসারে কিডনির পাথর বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন-ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ক্যালসিয়াম ফসফেট, ইউরিক এসিড পাথর ইত্যাদি। এর মধ্যে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরই বেশি হয়।

*কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ: কিডনিতে পাথরের অবস্থান আকার ও সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাথর ছোট হলে রোগী তা বুঝতে পারে না ফলে অনেক দিন কাটিয়ে দেন। কোনো লক্ষণ প্রকাশ নাও হতে পারে। তলপেটে ব্যথা, কোমরের পিছনে ব্যথা, প্র¯্রাব হওয়া, ঘন ঘন জ¦র হওয়া, পিট ও পাজরের ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ কিডনিতে পাথর হওয়ার ইঙ্গীত বহন করে। একটি সর্তক ও সচেতন হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সুস্থ থাকা যায়।

কিডনিতে পাথর জন্মালে প্রধানত যে লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায় তা তুলে ধরা হলো:
*প্র¯্রাবে জ¦ালা পোড়া: কিডনিতে পাথর জমলে প্র¯্রাব করার সময় অথবা প্র¯্রাব করার পরে জ¦ালা যন্ত্রনা হয় বা থেমে থেমে প্র¯্রাব হয়। প্র¯্রাবে রক্ত বা পুজ বের হয়।

*পিঠ ও পাজরে ব্যথা: কিডনিতে পাথর হলে পিঠের দিকে ও পাঁজরের দুই পাশে তীব্র ব্যথা হতে পারে। কোমরের একটু ওপরে দু পাশে প্রায়ই ব্যথা অনুভব হয়। এমন হলে অবহেলা করবেন না। অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। *তল পেটে ব্যথা: কিডনিতে পাথর হওয়ার উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো তলপেটে ব্যথা হওয়া তা অনেক দিন ধরে থাকতে পারে। ব্যথা যদি না কমে লেগেই থাাকে তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। অবহেলা করবেন না।

Manual8 Ad Code

*বমিবমি ভাব: কিডনিতে পাথর জমা হলে কিছু খেলেই বমি বমিভাব, মাথা ঘোরা, জ¦র, শারীরিক দুর্বলতা, খিদে কমে যাওয়া লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে। অনেক অবহেলা করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বলে বসে থাকেন। এতে শরীরে মারাত্মক জঠিলতা দেখা দিতে পারে। সাবধান হোন অবহেলা করবেন না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

*জ¦র হওয়া: শরীর দুর্বল লাগা, ঘন ঘন জ¦র হওয়া কিডনিতে পাথর হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। সর্দি হলেই সব সময় জ¦র হবে এমন ভাববেন না। অবহেলা করবেন না। *প্র¯্রাবের রঙ বদল: প্র¯্রাবের স্বাভাবিক রঙ বদলিয়ে যদি গোলাপী, বাদামী বা লাল হয়ে গেলে তাতে কিডনিতে পাথর হওয়ার মারাতœক লক্ষণ হতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

Manual8 Ad Code

*প্রতিরোধ: প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। যাতে দেহে পানি শূন্যতা দেখা না দেয়। কম পরিমানে পানি পান করা কিডনিতে পাথর হওয়ার বড় কারন। বয়স ভেদে ও কাজের ধরন মতে সবাই প্রচুর পানি পান করা উচিত। খেয়াল রাখবেন প্রতিদিন প্র¯্রাবের রঙ যেন সব সময় সাদা ও হালকা হলুদ হয়। সব ধরনের পাথরের ক্ষেত্রে সোডিয়াম অক্সালেট পাথরের ক্ষেত্রে অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার বাদ দিতে হবে। যেমন: পালং শাক, পুঁই শাক, কচু শাক, ডাল, পান, টমেটো, বাদাম, মটরশুঁটি, বিট, মিষ্টি আলু, বেগুন, ঢেড়স, খেজুর, কামরাঙ্গা, আমলকী, আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, চা, সস, চকোলেট। ইউরিক এসিড পাথরের ক্ষেত্রে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার বাদ দিতে হবে। যেমন: গরু, খাসি, হাঁস, ভেড়ার মাংস, কলিজা, মগজ, চিংড়ি, মাছের ডিম, শিম, শিমেরবিচি, সস, বরবটি, বেগুন, পালংশাক, ডাল, ফুলকপি, ইত্যাদি। ক্যালসিয়াম ফসফেট পাথররে ক্ষেএে দুধ ও দুধের তৈরী খাবার যেমন পায়েস দই ছানা পানির ইত্যাদিতে বেশি ক্যালসিয়াম থাকে, আবার ভিটামিন ডি অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম শোষন করতে সাহায্য করে, তাই এসব ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারও বাদ দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন না।

Manual5 Ad Code

সতর্কতা: শারীরিক যেকোন সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। নিজে নিজে কোন প্রকার ঔষধ খাবেন না। সতর্কতা ও সচেতন হোন সুস্থ জীবন গড়–ন।

Manual3 Ad Code

সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code