কিশোরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী খাবার “সিদল” বিলুপ্তির পথে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক : সিদল বাংলার সংস্কৃতি-ঐতিহ্যর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সিদলের কথা শুনলে জিভে পানি না আসে এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু কালের চাপায় দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছের আকাল, গ্রামীণ নারীদের ব্যস্ততা আর হরেক রকম বাহারি খাবারের ভিড়ে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম মুখরোচক খাবার সিদল গ্রামীণ জীবনের মানস পটে হারিয়ে যাচ্ছে। নারীর হাতের তপ্ত ছোঁয়ায় ছোট মাছের শুঁটকি ও কচুর ডাটা প্রক্রিয়া জাত করণের পর রসুন, আদা, কাঁচা মরিচ, মসলার সংমিশ্রণে শিলপাটা কিংবা উরুন গান পিষে হলুদের গুড়া, খাঁটি সরিষার তেল লেপনের মুন্ডু হাতের মুষ্টিতে তৈরি করা এক প্রকারের খাবারের নাম সিদল। বাহারি সব খাদ্য তালিকায় স্বাদ আর মৌ-মৌ গন্ধে অতুলণীয় মুখরোচক খাবার হিসেবে সিদলের কদর কোন অংশে কম নয়। সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রায় আলাদা আঙ্গিকে স্বাদের কারণে শুধু নীলফামারী কিশোরগঞ্জে নয় রংপুর অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারের মানুষের এটি অতি জনপ্রিয় একটি খাবার। পারিবারিক থেকে শুরু করে ভুরিভোজ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিদের আপ্যায়ন প্রানবন্ত করে তুলতে সিদল ভর্তার কোন জুড়ি নেই। শুধু তা-ই নয়, হাটে-বাজারে বিক্রিও হতো গ্রামীণ পরিবারের নারীদের হাতের তৈরি এই মুখরোচক খাবার। অনেক হতদরিদ্র পরিবার এই ক্ষুদ্র পেশায় জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করতো। সিদল হাটে-বাজারে বিক্রির ধুম নেই । এখন আর চোখে পড়ে না। তবে সচরাচর চোখে না পড়লেও শখের বশে গ্রামাঞ্চলে অনেকেই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি এখনো তৈরি করেন। কিন্তু শহরকেন্দ্রিক মানুষ জন এখনো খুঁজে ফিরে সিদলের ভিড়ে ।

Manual4 Ad Code

সিদলের সাথে পরিচিত উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পশ্চিমপাড়া গ্রামের তহমিনা জানান, কচুবাটার সঙ্গে খইলসা, ডারকা বা পুঁটি মাছের আধাভাঙ্গা গুড়া, প্রয়োজনমতো শুকনা মরিচ, লবণ, রসুন, আদা বাটা সবকিছুর সঙ্গে মেশাতে হয়। তারপর মুষ্ঠি হাতে চেপে চেপে তৈরি হয় সিদল। মাছ ও শাক সবজি দিয়ে বিভিন্নভাবে সিদল রান্না করা যায়। তবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মুখরোচক হচ্ছে সিদল ভর্তা। স্থানীয় প্রবীণ নারীরা জানান, একসময় এ অঞ্চলে খাল-বিল নদী-নালায় অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির ছোট-বড় মাছে ভরপুর ছিলে। তখন সিদল তৈরি করাটা অনেকের কাছে শখের পাশাপাশি পেশাও ছিল। কালের বিবর্তনে মাছের সংকট এবং নানা ব্যস্ততার কারণে এখন ইচ্ছে থাকলেও সিদল তৈরি করা হয়ে ওঠে না। বাজারজাত সহ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ পেশা এখনো বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে ঐতিহ্যবাহী এ সিদল।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code