

স্টাফ রিপোর্টার
এইচএসসি পরীক্ষার পর তরুণদের চোখে ভেসে ওঠে ভবিষ্যতের হাজারো স্বপ্ন। কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, কেউবা বিদেশে গিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার স্বপ্নে বিভোর। ঠিক এই সময়টাতেই কিশোরগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আয়োজন করেছে একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কোর্স, যা তরুণদের সেই স্বপ্নকে আরও মজবুত করতে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কাটাবাড়িয়াস্থ টিটিসি প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজন করা হয় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে এটি ছিল ব্যতিক্রমী এক আয়োজন—কারণ পুরো অনুষ্ঠানই অনুষ্ঠিত হয় ভার্চুয়ালি। প্রযুক্তির এ যুগে প্রশিক্ষণের উদ্বোধনেও যখন প্রযুক্তিই সেতুবন্ধন তৈরি করে, তখন অনুষ্ঠানটি যেন আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত হন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক (গ্রেড-১) সালেহ আহমদ মোজাফফর।
সভায় বক্তারা বলেন, শুধু সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। দেশের উন্নয়ন যেমন তরুণদের হাতে, তেমনি বৈশ্বিক কর্মবাজারেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হলে দক্ষতা উন্নয়নের বিকল্প নেই।
টিটিসির অধ্যক্ষ জাভেদ রহিম ও প্রশিক্ষক দল—আজহারুল ইসলাম, আবু তাহের, মিজানুর রহমান, এমদাদুল হক, শাহরিয়ার রশিদ অন্তর এবং আশরাফুল ইসলাম সুমন—ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানান।
তিন মাস মেয়াদী এই কোর্সে কম্পিউটার ও ইলেকট্রিক্যাল ব্যাচে অংশ নিচ্ছেন মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী। তাদের চোখে-মুখে ছিল নতুন এক পথচলার উচ্ছ্বাস। শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রত্যয়ও ছিল স্পষ্ট।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যেন শুধু একটি কোর্স নয়, বরং তরুণদের আত্মনির্ভরতার পথে প্রথম পদক্ষেপ। কিশোরগঞ্জ টিটিসির এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—সুযোগ পেলে তরুণরাই বদলে দিতে পারে নিজেদের ভবিষ্যৎ, আর সেইসঙ্গে দেশেরও।