

সম্পাদকীয় :: বরিশাল নগরীর কোলঘেঁষে বয়ে গেছে স্রোতস্বিনী কীর্তনখোলা নদী। ঐতিহ্যবাহী এ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওষুধ তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে দূষণের কবলে পড়েছে এ নদী। এ ছাড়া নদীর দুই পাড়ে থাবা বসিয়েছে কয়েক হাজার দখলদার। গত দুই যুগ ধরে এ নদী রক্ষায় আন্দোলন করছেন পরিবেশবাদীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সাল থেকে দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে বিআইডব্লিউটিএ; যদিও সেই তালিকা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। কীর্তনখোলা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে হাজারো পরিবার। নৌপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণসহ এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কীর্তনখোলার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে দখল-দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে এ নদী। পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছর পর কীর্তনখোলা নদী হারিয়ে যাবে। এলাকার প্রভাবশালীরা কীর্তনখোলা দখল করে নিয়েছেন। কেউ নদীর পাড়-সীমানা দখল করে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন স্থাপনা, কেউ আবার নদীর তীর দখল করে গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বস্তুত দখল ও দূষণে বর্তমানে সারা দেশের নদীগুলো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর হওয়া ট্যানারি থেকে নির্গত বর্জ্যে ধলেশ্বরী নদীর পানিতে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই নদীটির নতুন নতুন এলাকা দূষণের শিকার হচ্ছে। ট্যানারি থেকে নির্গত বর্জ্য পরিশোধন করে পানি নদীতে ফেলার বিষয়টি কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবতা হলো ট্যানারি থেকে নির্গত বর্জ্যে ধলেশ্বরী এখন মৎস্যশূন্য। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে ট্যানারি বর্জ্যরে কারণে ধলেশ্বরীর পানির মান এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছছে যে, সেখানে কোনো জলজ প্রাণীর অস্তিত্বই নেই। কেবল এ নদীটিই নয়, জানা গেছে, বর্তমানে সাভারের সব নদী ও খালই এখন মৎস্যশূন্য। বস্তুত দূষণের কারণে বর্তমানে সারা দেশের নদীগুলো বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে। দূষণের শিকার এসব নদীর পানি চাষাবাদেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত পানি দিয়ে চাষাবাদ করা হলে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ খাদ্যচক্রে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই দখল ও দূষণ থেকে সারা দেশের নদীগুলো রক্ষা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।