

ডেস্ক রিপোর্ট: পবিত্র কুরআনে যেখানেই জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা বলা হয়েছে, সঙ্গে জান্নাতের অনাবিল সুখ-শান্তির কথাও এসেছে।
সূরা শুরার ২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা অপরাধীদের সম্পর্কে বলেছেন, ‘হে নবি! তুমি সেদিন গোনাহগারদের ভয়ে অস্থির দেখবে। তারা যা করেছে, তার শাস্তি তাদের পেতেই হবে।’
পৃথিবীতে এমন একজন মানুষও খুঁজে পাওয়া যাবে না যার কোনো গোনাহ নেই। আমি-আপনি সবাই কমবেশি গোনাহ করেছি। তার মানে গোনাহর শাস্তি আমাদের পেতেই হবে। আল্লাহকে ভয় করে-এমন যে কারও জন্যই এটি বড় হতাশার কথা। আমরা জাহান্নামের এক মুহূর্তের শাস্তিও সহ্য করতে পারব না। তাহলে উপায়?
বান্দা যেন হতাশ না হয়ে আশায় বুক বাঁধে তাই দয়াময় প্রভু বড় দয়া করে পরের অংশেই আশার আলো ফুটিয়েছেন। বলেছেন-‘যারা বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীল, তারা অনাবিল শান্তির জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তারা যা চাইবে, প্রেমময় প্রভু তাই দেবেন। এটা বিশ্বাসীদের প্রতি তাদের প্রভুর মহা অনুগ্রহ। (সূরা শুরা, আয়াত ২২।) এভাবেই হতাশার অন্ধকারে আশার আলো জ্বালেন আল্লাহতায়ালা। এ রকম আশা-হতাশার আলো-অন্ধকার খুঁজে পাওয়া যাবে কুরআনের পাতায় পাতায়।
নবিজির মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা আমাদের আশার আলো দেখান। বিনিময়ে আমরা নবিজিকে কী দেব? আসলে আমাদের দেওয়া-না দেওয়ায় নবিজি (সা.)-এর কিছুই যায় আসে না। আমরা নবিজিকে দেব আমাদের জন্যই। যেই জান্নাতের সুখবর তিনি আমাদের দিচ্ছেন, সে জান্নাত যেন সহজেই পেতে পারি, তাই নবিজি (সা.) আমাদের সহজ পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। তাও আবার নবিজির ভাষায় নয়। আল্লাহতায়ালার ভাষায়। কুরআনের শব্দে- ‘জালিকাল্লাজি ইয়ুবাশশিরুল্লাহু ইবাদাহুল্লাজিনা আমানু ওয়া আমিলুস সালিহাত। কুল লা আসআলুকুম আজরান আলাইহি ইল্লাল মাওয়দ্দাতা ফিল কুরবা। অর্থ : আল্লাহতায়ালা এভাবেই নবির মাধ্যমে মুমিন বান্দাদের খুশির খবর শোনান। হে নবি! আপনি মুমিনদের বলে দিন, এই যে তোমাদের আমি সুখবর দিচ্ছি, জান্নাতের কথা বলছি-এর বিনিময় আমি কিছুই চাই না শুধু আমার কাছে আত্মীয়দের ভালোবাসা ছাড়া।’ (সূরা শুরা, আয়াত ২৩।)