কুরআনের সৈনিক রাসূলের সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন নবিজির একনিষ্ঠ খাদেম। সফরে, গৃহের অভ্যন্তরে, বাইরে সব সময় তিনি তাঁর সঙ্গে থাকতেন। কোনো মজলিসে যাওয়ার সময় ইবনে মাসউদ নবিজি (সা.)-এর জুতা বগলদাবা দিতেন।

Manual3 Ad Code

নসিহত করার সময় নবিজি লাঠি তার হাতে দিতেন। নসিহত করে বের হলে তিনি জুতা সাজিয়ে দিতেন পরার জন্য। নবিজি একা বের হলে তিনি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বের হতেন। (মুসনাদে আহমাদ)।

Manual7 Ad Code

রাসূল (সা.) ঘুমালে তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন, গোসলের সময় পর্দা দিতেন। মিসওয়াক বহন করতেন। তিনি যখন হুজরায় অবস্থান করতেন তখনো তার কাছে যাতায়াত করতেন। রাসূল (সা.) তাকে যখনই ইচ্ছা তাঁর কামরায় প্রবেশ এবং কোনো ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সংকোচ না করে তার সব বিষয় অবগত হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। এবং তার পারিবারিক আলোচনায় বসারও অনুমতি দিতেন। এ কারণে তাকে ‘সাহিবুস সির’ বলা হয়। (মুসনাদে আহমাদ)।

তার সঙ্গে মহানবি (সা.)-এর সম্পর্ক এতটাই দৃঢ় ছিল যে অনেকে তাকে মহানবি (সা.)-এর পরিবারের সদস্য ভাবতেন। তিনি ও তার মা প্রায়ই মহানবি (সা.)-এর বাড়ি যেতেন। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, আমরা মদিনায় এসে ইবনে মাসউদকে রাসূল (সা.)-এর পরিবারের সদস্য হিসাবেই মনে করতাম। কেননা রাসূল (সা.)-এর কাছে তার ও তার মায়ের অধিক পরিমাণে যাওয়া-আসা ছিল। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮০৬)।

নবিজির সান্নিধ্য লাভ করতে করতে তিনি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন যে তার আচার-আচরণ ও চলাফেরায় নবিজির প্রভাব পরিলক্ষিত হতো। হজরত হুজাইফা (রা.) বলেন, সাহাবায়ে কিরামের মধ্য থেকে চলাফেরা ও আচার-ব্যবহারে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮০৭)।

তাই সাহাবায়ে কিরামও তার প্রতি সুধারণা পোষণ করতেন। হজরত আলী (রা.) বলেন, যদি আমি কাউকে বিনা পরামর্শে আমির নিযুক্ত করি, তাহলে ইবনে মাসউদকে করব। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৮০৮)। ইবনে মাসউদ খোদ রাসূল (সা.)-এর শিক্ষালয়ে শিক্ষালাভ করেন। তাই সাহাবিদের মধ্যে যারা কুরআনের সবচেয়ে ভালো পাঠক, তার ভাব ও অর্থের সবচেয়ে বেশি সমঝদার এবং আল্লাহর আইন ও বিধিবিধানের সবচেয়ে বেশি অভিজ্ঞ, তিনি ছিলেন তাদেরই একজন।

Manual3 Ad Code

তিনি অত্যন্ত বিশুদ্ধ ভাষায় কুরআন তেলাওয়াত করতেন। তার কুরআন তেলাওয়াতের প্রশংসা করেছেন মহানবি (সা.)। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন যেভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে পড়তে চায়, সে যেন ইবনে মাসউদের মতো পড়ে। (মুসনাদে আহমাদ)।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code