কুষ্টিয়ায় ভুয়া পে-অর্ডারের মাধ্যমে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

জাহাঙ্গীর হোসেন জুয়েল কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥

Manual1 Ad Code

কাজের বিপরীতে জামানতের ভুয়া পে-অর্ডার জমা দিয়ে কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের একটি সেতুর টোল আদায়ের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। কাজের মেয়াদ শেষে সওজ ওই পে-অর্ডার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় ক্যাশ করতে গেলে এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
কুষ্টিয়া সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে লাহিনীপাড়া এলাকায় গড়াই নদের ওপর সৈয়দ মাসউদ রুমি সেতুর টোল আদায়ের দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায়। দরপত্র অনুযায়ী প্রতি বছর তিন মাস অন্তর অন্তর চার কিস্তিতে টোলের টাকা পরিশোধ করার কথা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। এ ক্ষেত্রে দুই কিস্তির সমপরিমাণ অর্থ সওজ অধিদপ্তরের কাছে জামানত হিসেবে রাখা বাধ্যতামূলক। সে অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার প্রায় আড়াই কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার সওজ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া কার্যালয়ে জমা রাখে।
যেহেতু দুই কিস্তির টাকার সমপরিমাণ টাকা সওজ বিভাগে আগেই জামানত হিসেবে জমা রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সে কারণে কাজের মেয়াদ শেষে টোলের টাকার শেষ দুটি কিস্তি জমা দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সওজ কর্তৃপক্ষ ওই পে-অর্ডার দুটি সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখায় ভাঙাতে গিয়ে জানতে পারে, এগুলো জাল। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অগ্রিম টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে কীভাবে এ পে-অর্ডার পেল তার উত্তর মেলেনি। পাশাপাশি যখন জামানতের পে-অর্ডার সওজ কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়, তখন সওজ কর্তৃপক্ষ পে-অর্ডারগুলো যাচাই বাছাই করেনি কেন, নাকি যাচাইবাছাই করেও তৎকালীন কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ থেকেছে উঠেছে এ প্রশ্নও।
কুষ্টিয়া সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার পে-অর্ডার দুটি ব্যাংকে ক্যাশ করতে গিয়ে জানা গেলে সেগুলো আসল নয়, জাল।
কুষ্টিয়া সওজ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিরুল ইসলাম বলেন, পে-অর্ডার দুটি ব্যাংকে ক্যাশ করতে গিয়ে জানা গেলে সেগুলো আসল নয়, জাল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত মামলা করা হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাও দায় এড়াতে পারে না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হালিমুজ্জামান বলেন, ‘কাজের অর্ডার পাওয়ার পর জামানতের জন্য দুটিসহ মোট ছয়টি পে-অর্ডার সওজ বিভাগে জমা দিয়েছিলাম। সওজের তৎকালীন কর্মকর্তারা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় গিয়ে সেটি যাচাইবাছাই করে নেন। পরে সওজ বিভাগ জামানতের দুটি পে-অর্ডার ছাড়া বাকি চারটি পে-অর্ডার ভাঙিয়ে ক্যাশ করেও নেয়। এখন তিন বছরের মাথায় এসে কী করে সেই পে-অর্ডার জাল হয়ে গেল, সেটা মাথায় ঢুকছে না।
সাউথইস্ট ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। যে সময়ের ঘটনা তখন জাকির হোসেন নামের একজন ব্যবস্থাপক দায়িত্বে ছিলেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code